আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরও ভাঙনের পথে তৃণমূল। এবার দলের 'বিদ্রোহী' শিবিরের পথে কলকাতা উত্তরের তৃণমূল সাংসদ। শনিবারই সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলার বিজেপি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়েছেন সুদীপ ব্যানার্জি। এরপরই চাঁচাছোলা বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর তোপে মমতা ব্যানার্জি। সরব চুঁচুড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যও।
কী বলেছেন সুদীপ?
কুণাল ঘোষকে আগেও সুদীপ ব্যানার্জির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে সুদীপ বিরোধী পরিচিত বেলেঘাটার বিধায়ক। সুদীপ-নয়না-কে নিয়ে যখন প্রকাশ্যে তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, সেই সময়ে তাপসের পাশে ছিলেন কুণাল। সুদীপ ব্যানার্জির সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। ফলে দল তেকেও সাসপেন্ড করা হয়েছিল তাঁকে।
সুদীপ ব্যানার্জির 'বিদ্রোহী' শিবিরে যাওয়ার তোড়জোড় তুঙ্গে। এর মধ্যেই সংবাদমাদ্যমে কুণাল ঘোষ বলেন, "এই সুদীপ ব্যানার্জির মতো নেতাদের জন্যই তাপস রায়, সজল ঘোষদের তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। বারে বারে নেত্রীর পায়ে পড়েছেন, সুবিদা নিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী বিধায়ক। সব ধরণের সুবিধা তাঁদের নেত্রী দিয়েছেন। এবার মমতা দি বুঝবেন কেন আমি সেই সময়ে সুদীপ ব্যানার্জির বিরোধিতা করেছিলাম। কেউ তখন আমার কথা শোনার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ দল জিতছিল। এবার হারতেই দলবদলুদের তালিকায় ফের সুদীপ ব্য়ানার্জি। দলনেত্রী নিশ্চই বুঝছেন। এটাই তাঁর প্রাপ্য ছিল।"
দেবাংশুর চড়া সুর
সোশ্যাল মিডিয়াতে নাতিদীর্ঘ পোস্টে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের তরুণ মুখ দেবাংশু ভট্টাচার্য। পোস্টে লেখা রয়েছে, 'সুদীপ ব্যানার্জীর জন্য তাপস রায়কে বঞ্চিত করা হয়েছিল। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তার সভাপতিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে আলোচনা না করেই। তাপস রায় আজ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সুদীপ ব্যানার্জীও এনডিএ। সুদীপ ব্যানার্জির জন্য সজল ঘোষরা দল থেকে বেরিয়ে গেছিল। সুদীপ ব্যানার্জীর চ্যালাদের কারসাজিতে সজল ঘোষকে দরজা ভেঙে বের করে আনা হয়েছিল, যা গোটা কলকাতা দেখেছিল! আজ সজল ঘোষ কাউন্সিলর, বিধায়ক, সম্ভবত ভবিষ্যতের মেয়রও.. আর যার জন্য এত কিছু, সেই সুদীপ এনডিএ'
দেবাংশুর পোস্টে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর নামও উঠে এসেছে। লিখেছেন, ' দীনেশ ত্রিবেদীর জন্য প্রথমে আমরা অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম ২০১৯ এ। পরে সেই দীনেশই বিজেপিতে চলে গেছিল। পরে যখন ফেরত এসেছিল, তখন পার্থ ভৌমিকের জন্য আমরা দ্বিতীয়বার অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম। আজ অর্জুন সিং বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ক্যাবিনেট মিনিস্টার। আর পার্থ ভৌমিকও এনডিএ। এবং আমি আজও নিশ্চিত, দল যদি কোনওদিন ক্ষমতায় ফেরে, আবারও সুদীপ ব্যানার্জিরাই জায়গা পাবেন, রাজত্ব করবেন.. কারণ এই দল ২০১৯ থেকে শিক্ষা নেয়নি। ২০২১ এর ভোটের আগে দল ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানিয়েছিল.. তখনই দলের প্রত্যেক স্তরে বার্তা চলে গেছিল, বিপদে এই দলের সঙ্গ ছাড়লেও ভালো সময় পুনরায় ফেরত আসা যায়, রাকোতেও করা যায়, নেতা হওয়া যায়... সেদিন সেই বার্তাটাই আজকের পরিণতির মূল ভিতিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।'















