আজকাল ওয়েবডেস্কঃ সল্টলেকে সকাল থেকেই বিজেপি-র দফতরে মানুষের ঢল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানে এই নিয়ে চতুর্থদিন জনতার দরবারের আয়োজন করা হল। সেখানেই উপস্থিত হন চেতলার বাসিন্দা দেবারতি চ্যাটার্জি। তাঁর অভিযোগ, তাঁর মামা জোর করে সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রাক্তন মেয়রের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি।

 

এ দিন জনতার দরবারে দেবারতি চ্যাটার্জি জানান, কালীঘাটের কাছে চেতলাতে তাঁর বাড়ি। ছোট থেকে বেড়ে ওঠা ওই বাড়িতেই। স্কুল-কলেজে পড়াশোনা থেকে চাকরি- সমস্ত কিছুই ওই বাড়িতে থেকে। দিদার সম্পত্তির একটি ভাগ তাঁর নামেও বরাদ্দ ছিল।দেবারতি বলেন, "২০১৮ সালের মধ্যেই আমার বাবা, মা, দাদু, দিদা সকলেই মারা যান। তার পর ওই বাড়িতে মামা-মামীর সঙ্গে থাকতে শুরু করি। ওই সময়ে চাকরিতে প্রাপ্ত বেতনের ২০০০ টাকা আমাকে সংসার চালানোর জন্য মামা-মামীদের দিতে হত। তা সত্ত্বেও খাওয়ার জুটত না ঠিকমতো। তখনই মামা অমিতাভ গাঙ্গুলি জানান, বাড়ির মালিকানা চান তিনি। আমি জানাই, আমার জন্য বরাদ্দ দ্বিতীয় তলা অর্থাৎ ফার্স্ট ফ্লোরটি আমাকে দিয়ে দেওয়া হোক। বাকি বাড়ির মালিকানা কার হাতে থাকবে সেই নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।"

 

দেবারতির অভিযোগ, এর পর তিনি বিয়ে করে অন্যত্র স্থানান্তরিত হন। সেই সময়ে তাঁর মামা তাঁকে ফোনে জানান, তাঁদের উকিল আয়ুষ মুখার্জির আইনি সহায়তার বাড়ির দ্বিতীয় তলা দেবারতিকে হস্তান্তর করা হবে। সেই নথি তিনি যেন চেতলার বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসেন। আর এর পরেই চরম লাঞ্ছনার সম্মুখীন হন দেবারতি। ওই বাড়িতে পৌঁছতেই অমিতাভ জানান, সম্পত্তির কোনও ভাগ নেই তাঁর। সমস্ত আইনি কাগজ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর সমস্ত নথি, গয়নাগাটি এবং টাকাও ছিনিয়েও নেওয়া হয়। সঙ্গে মারধরও করা হয়।

 

দেবারতি বলেন, "মামা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং এলাকার দুষ্কৃতির ঘনিষ্ঠ ছিল। প্রায়ই আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত। তা সত্ত্বেও ওই ঘটনার পর আমি কাউন্সিলর এবং তৎকালীন মেয়রের দ্বারস্থ হই। লিখিত অভিযোগ জানাই। পাশাপাশি, পুলিশের কাছেও জিডি করি। এর পর একাধিকবার মামাদের তলব করা হলেও ওঁদের উকিল হাজিরা দেননি। ২০২৩ সাল থেকে এই নিয়ে লড়ে যাচ্ছি আমি। সেই সময়ে আমি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছেও লিখিত অভিযোগ পাঠাই। সেই সময় এই বেআইনি জবরদখলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার কথা বলা হলেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই আমি আজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবারও অভিযোগ জানাতে এসেছি।"