আজকাল ওয়েবডেস্ক: সকালবেলা জানা গিয়েছিল, আনন্দপুরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১। বৃহস্পতিবার বিকেলেই জানা গেল, আরও চারজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে বিকেলে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫। একইসঙ্গে পুলিশ সূত্রে খবর, ১৬ জনের ডিএনএ টেস্ট করতে পাঠানো হয়েছে। আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার, বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া চারজনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
একইসঙ্গে সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে পুলিশ সূত্রে আরও খবর, একজন ব্যক্তি, যাঁর দেহের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে, তাঁকে শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর তিনি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্মী।
দেহ পুড়ে গেলেও তাঁর পরিধেয় বস্ত্র সামগ্রী থেকে স্পষ্ট হয়েছে তিনি মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্মী। যদিও ওই ব্যক্তির পরিবারে তাঁকে শনাক্ত করেনি বলেই খবর সূত্রের।
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ধারা বলবৎ থাকবে। বারুইপুরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ পাঠক নরেন্দ্রপুর থানাকে এই নির্দেশ কার্যকরী করার জন্য অর্ডার দিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটার দূরত্বে কোনও বিক্ষোভ, চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, এবং কোনও প্রমাণ যাতে নষ্ট না করা হয়, তার জন্য এই নির্দেশ বলবৎ করা হয়েছে।
রবিবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা এবং প্যান্ডেল সামগ্রীর গোডাউনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন এতটা ভয়াবহ ছিল, গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের ৭২ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অগ্নিদগ্ধ দেহগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায়, অনেকের দেহ এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে মন্ত্রী ফিরাহাদ হাকিম বলেন, "ঘটনা পর থেকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্পূর্ণ কাজ তদারকি করেছেন। এমনকী স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম ও যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ সায়নী ঘোষও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ উদ্ধার কাজের তদারকি করেছেন। রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে আমি আজ এসেছি সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য। আগামিকাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে আসবে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।”
মঙ্গলবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাসকে (৫৯)। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামে। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেকোরেটার্সের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
