আজকাল ওয়েবডেস্ক: আনন্দপুরে জোড়া গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার আরও পাঁচ জনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অনেক। উদ্ধারকাজ চালু রয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা এখনও হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার রাত ৩টে নাগাদ নাজিরাবাদের গুদামে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি গুদামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আগুন এতটা ভয়াবহ ছিল, গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে দমকল সূত্রে অনুমান, দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণ—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আনন্দপুরের গুদামে বিধ্বংসী আগুন। ছবি: এক্স।
ইতিমধ্যে প্যান্ডেল গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে বারুইপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ রয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষুদিরাম দিন্ডা (৪৭), দেবাদিত্য দিন্ডা (১৮) শশাঙ্ক জানা (৪৪)। তিন জনই মেদিনীপুরের তমলুকের তিন গ্রামের বাসিন্দা। এরা প্রত্যেকে ফুলের কাজ করতেন গঙ্গাধরের কোম্পানিতে। সংস্থার নাম নিউ পুষ্পাঞ্জলি নার্সারি। নানা অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার কাজ করত ওই সংস্থা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে মন্ত্রী ফিরাহাদ হাকিম বলেন, “ঘটনা পর থেকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্পূর্ণ কাজ তদারকি করেছেন। এমনকী স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম ও যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ সায়নী ঘোষও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ উদ্ধার কাজের তদারকি করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে আমি আজ এসেছি সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য। আগামিকাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে আসবে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।”
