আজকাল ওয়েবডেস্ক: গিয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে, তাঁরই বান্ধবীর বিয়েতে। দু’ ঘণ্টা পথ অতিক্রম করে গিয়ে দাঁড়াতেই এমন পরিস্থিতি হল, ১৫ মিনিটও থাকতে পারলেন না অতিথি। দৌড়ে চলে যেতে হল অনুষ্ঠান ছেড়ে। নিজেই সেই অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন। নেটিজেনরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে ভোলেননি একদম। তুলোধনা করেছেন কনেরও।

যুবতীর নাম অ্যালেস ব্রাউন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে জানিয়েছেন, স্বামীর বান্ধবীর বিয়েতে গিয়েছিলেন প্রায় দু’ ঘণ্টা জার্নি করে। কিন্তু গিয়ে দাঁড়াতেই রে রে করে ওঠেন খোদ করে। বলতে শুরু করেন, অ্যালেস যে পশাক পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন, তা কনের সেট করে দেওয়া ‘ড্রেস কোড’ অনুযায়ী নয়। যদিও অ্যালেস বলছেন তিনি যে অনুষ্ঠানপত্র পেয়েছেন, তাতে ড্রেস কোডের কোনও বিষয় উল্লিখিত ছিল না। কিন্তু সেখানে পৌঁছতেই কনে যে আচরণ শুরু করেন, তাতে অ্যালেস আর সেখানে থাকা প্রয়োজনীয়, বাঞ্ছনীয় মনে করেননি।

আরও পড়ুন: টিসিএস-মাইক্রোসফট-ইন্টেল, জুলাই মাস জুড়েই এই সংস্থাগুলি কর্মী ছাঁটাই করেছে হাজার হাজার, কারণ জেনে ভয়ে কাঁপছেন বাকিরা

পরবর্তী একটি ভিডিওতে, অ্যালেস স্পষ্ট করে বলেন যে কেউ তাঁকে চলে যেতে জোর করেনি; এটা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি কনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সাধারণত, আমি লোকদের বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দিই ড্রেস কোড না মানলে, কিন্তু যেহেতু তুমি অনেক দূর থেকে এসেছো, তাই আমি তোমাকে থাকতে দেব।‘ এই মন্তব্যটি অ্যালেসকে এতটাই বিরক্ত করে, তিনি আর কালবিলম্ব করেননি। 

পোশাকের বিবরণ এবং অতিথিদের প্রতিক্রিয়ার ভিডিওতে, অ্যালেস তাঁর এবং তাঁর স্বামীর পোশাকের একটি ছবিও শেয়ার করেছেন। অ্যালেস নীল, সাদা এবং গোলাপী রঙের হাঁটু পর্যন্ত লম্বা মোড়ানো পোশাক পরেছিলেন,  তাঁর স্বামী একটি হালকা গোলাপী শার্ট এবং একটি নেভি স্যুট পরেছিলেন। তিনি ক্যাপশনে আরও যোগ করেছেন যে তাঁর স্বামীকে বলা হয়েছিল যে তার গোলাপী শার্ট এবং টাই অনুপযুক্ত এবং তাঁকে টাই খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল।

কনের আচরণে দর্শকরা হতবাক হয়ে গেছেন, অনেকেই মন্তব্যে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'একটি আনুষ্ঠানিক বিবাহের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ প্রয়োজন। আপনি যদি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানান, তাহলে আপনি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে বিবাহের পোশাক পাবেন।' আরেকজন বলেছেন, ‘তোমরা দুজনেই বিয়ের জন্য নিখুঁত পোশাক পরেছিলে।' আরেকজন মন্তব্য করেছেন, 'যাকে বিয়ে করছেন তার জীবন কঠিন হবে! তোমাদের দুজনকেই দারুন দেখাচ্ছিল, বিয়ের জন্য প্রস্তুত। এটা লজ্জাজনক। কনের ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং তার আচরণ ঠিক করা উচিত।‘

কিছু মন্তব্যকারী প্রশ্ন তুলেছেন যে তাঁর স্বামী কি তাঁর চলে যাওয়ার পরেও বিয়েতে থেকেছিলেন? অ্যালিস নিশ্চিত করেছেন যে তার স্বামী, তাঁকেও তাঁর বান্ধবী অনায়াসে বলসেছিলেন একেবারেই ঠিকঠাক পোশাক পরেনি, সেও অ্যালেসের সঙ্গেই চলে গিয়েছিলেন। তিনি আরও যোগ করেছেন যে তাঁর স্বামী গোটা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা 'দুঃখিত' ছিলেন কারণ কনে তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন।