আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়ে এবার সমস্ত শালীনতার সীমা ছাড়ালেন এক পাকিস্তানি ইউটিউবার। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে মহসিন আলি নামক ওই ইউটিউবারকে ভারতের জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্তাকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিতে দেখা যাচ্ছে। শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি, লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালীন নিজের ঘরের ভেতরেই পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন তিনি।

ফ্রি প্রেস জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইউটিউবার মহসিন আলি নিজের বাড়ির সোফার পেছনে দাঁড়িয়ে এই ভিডিওটি রেকর্ড করছিলেন। ভিডিওতে তাঁকে সরাসরি বিক্রান্ত গুপ্তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক কথা বলতে শোনা যায় এবং এক পর্যায়ে তিনি পকেট থেকে বন্দুক বের করে ফাঁকা আওয়াজ করেন। ঘরের ভেতরে এভাবে গুলি চালানোর ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, জনসমক্ষে বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের হিংসাত্মক আচরণের জায়গা কোথায়?

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই ভারতীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ব্যবহারকারী মহসিন আলিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলটি পাকাপাকিভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। একজন ইউজার ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখেছেন, "ইউটিউব কীভাবে এই ধরণের আচরণ প্রচার করার অনুমতি দেয়? বন্দুকটি আসল হোক বা নকল, এটি তাঁর উগ্র মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।" অন্য একজন লিখেছেন, "জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য এ ধরনের নোংরামি মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।"

তবে ভিডিওতে দেখানো বন্দুকটি কি সত্যিই আসল ছিল, নাকি স্রেফ ভয় দেখানোর জন্য খেলনা পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। যদিও নেটিজেনদের বড় অংশ মনে করছেন, বন্দুক আসল হোক বা নকল—একজন সাংবাদিককে এভাবে খুনের হুমকি দেওয়া এবং হিংসার মহড়া চালানো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এখন দেখার বিষয়, ইউটিউব কর্তৃপক্ষ এবং পাকিস্তান প্রশাসন এই উগ্র আচরণের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।