আজকাল ওয়েবডেস্ক: দাম্পত্যের বন্ধন বিশ্বাসের ওপর টিকে থাকে, কিন্তু সেই বন্ধনই যখন বিষাক্ত হয়ে ওঠে, তখন জীবন নরকযন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। সম্প্রতি এক ব্যক্তির নিজের বৈবাহিক জীবনের চরম সংকটের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা শুনলে যে কারও বুক কেঁপে উঠবে। স্ত্রীর মন পেতে, তাঁকে খুশি রাখতে দিনরাত এক করে খাটছেন স্বামী। বাড়তি উপার্জনের জন্য নিজের শরীর-মন সঁপে দিয়েছেন কাজে, যাতে স্ত্রীর জন্য দামি জিনিসপত্র কিনে আনতে পারেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও স্ত্রীর চোখে তিনি কেবলই একজন 'অপদার্থ'। এক ছাদের তলায় থেকেও তাঁদের মধ্যে কোনও  শারীরিক বা মানসিক সম্পর্ক নেই। স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তাঁর স্বামীকে সহ্যই করতে পারেনছেন না। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিয়ত কদর্য ভাষায় আক্রমণ করে চলেছেন স্বামীকে। তিনি নাকি দেখতে কুৎসিত, বিরক্তিকর এবং বিছানায় সম্পূর্ণ অক্ষম! এমনকি ক্ষোভের চোটে স্ত্রী এমনও মন্তব্য করেছেন যে, স্বামীর চেয়ে কোনও জলহস্তীর সঙ্গে শুতেও তাঁর আপত্তি নেই। একটু আদর করা বা গালে আলতো চুমু খাওয়ার চেষ্টা করলেই স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন তিনি।

সম্প্রতি এই ব্যক্তির জীবনে একটি বড়সড় শারীরিক বিপর্যয় বা হেলথ স্কেয়ার এসেছিল। তাঁর জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) তাঁকে হাসপাতালে বেশ কিছু পরীক্ষার জন্য পাঠান। স্বামীর অভিযোগ, এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা তো দূর, তাঁর অসুস্থতার কথা শুনে স্ত্রীর মুখে নাকি উলটে খুশির ঝিলিক দেখা গিয়েছিল! হাসপাতালে যেতে বললে স্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি হাসপাতাল পছন্দ করেন না, তাই যেতে পারবেন না। পরবর্তীতে পরীক্ষায় স্বামীর গুরুতর কিছু ধরা পড়েনি ঠিকই, কিন্তু বিপদের দিনে স্ত্রীর এই চরম উদাসীনতা ও নিষ্ঠুরতা ওই ব্যক্তির আত্মাকে চিরতরে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। অথচ ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। ২০১৮ সালে যখন এই স্ত্রী চাকরি হারিয়েছিলেন এবং নিজের এক বড় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন, তখন স্বামী নিজের গোটা জীবন থমকে দিয়েছিলেন তাঁর জন্য। প্রায় একটা বছর নিজের বন্ধু-বান্ধব, পরিবারকে ভুলে দিনরাত স্ত্রীর রান্না করা, ঘর পরিষ্কার এবং তাঁকে গাড়িতে করে সব জায়গায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব একহাতে সামলেছিলেন তিনি। আর আজ প্রতিদানে জুটছে কেবলই অপমান। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই মহিলাই যখন নিজের বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে বাইরে যান, তখন তিনি আড্ডার প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠেন। সবাই তাঁর রসবোধ ও উদারতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে, অথচ ঘরে ফিরলেই তিনি এক চরম অত্যাচারী রূপ ধারণ করেন। এই পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি নিজেকে অত্যন্ত একা, মূল্যহীন এবং অসম্মানিত বোধ করছেন। যে বাড়িতে ভালোবাসা বা সম্মান কিছুই নেই, সেখানে কীভাবে থাকা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মনোবিদ ও সমাজকর্মীদের মতে, এভাবে দিনের পর দিন কারও 'পাঞ্চিং ব্যাগ' হয়ে বেঁচে থাকা যায় না। এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে স্বামীকে অবিলম্বে স্ত্রীর মুখোমুখি বসে একটি আলোচনা বা 'হার্ট-টু-হার্ট টক' করতে হবে। তাঁকে সরাসরি জানাতে হবে যে, এই প্রতিনিয়ত অপমান এবং অবহেলা তাঁকে কতটা বিধ্বস্ত করছে। যদি স্ত্রীকে উলটে একই রকম কটু কথা শোনানো হতো, তবে তাঁর কেমন লাগত, সেই প্রশ্নও তুলতে হবে। শুধু 'কুৎসিত' বা 'অপদার্থ' বলে আক্রমণ করাটা যে অত্যন্ত অন্যায় এবং অভদ্রতা, তা স্পষ্ট করা দরকার। স্ত্রীর মনে যদি কোনও  লুকনো ক্ষোভ বা আসল অভিযোগ থাকে, তবে তা পরিষ্কার করে বলতে হবে। যদি এই বিয়ে টিকিয়ে রাখতেই হয়, তবে দুজনকে একসঙ্গে একটি নতুন ফ্রেশ স্টার্ট বা নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুজনে মিলে কীভাবে সম্পর্কটি আবার সুন্দর করা যায়, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলা জরুরি। প্রয়োজনে প্রফেশনাল রিলেশনশিপ কাউন্সেলিং-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। অনেক সময় মানুষ নিজে কোনও  মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভুগলে এমন আচরণ করে, তাই স্ত্রীর কোনও  চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কিনা, তা দেখতে তাঁকে জিপির কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া উচিত। একই সঙ্গে স্বামীর নিজেরও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া দরকার। তবে এত চেষ্টার পরেও যদি স্ত্রী নিজের আচরণ না বদলান এবং বিবাহিত জীবন যদি প্রতিদিনের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়, তবে নিজের আত্মসম্মান রক্ষার্থে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করাই শ্রেয়। কারণ, নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করার পর নিজেকে বাঁচানোর অধিকার সবার আগে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের মনের কষ্ট চেপে না রেখে বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনে আইনি বা মানসিক পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।