আজকাল ওয়েবডেস্ক: চীনে ৩ দিনের সফর শেষে আমেরিকা ফিরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কিন্তু চীন ছাড়ার আগে ট্রাম্প ও তাঁর সফরসঙ্গী দল যে কাণ্ড ঘটাল, তা রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। চীন সফরের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যাওয়া প্রতিনিধিরা চীন থেকে পাওয়া যাবতীয় উপহার ফেলে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এমনকী ওই প্রতিনিধিদল যে ‘বার্নার ফোন’ নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন, ফেরার সময় সেগুলিও নষ্ট করে দিয়েছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, এই পুরোটাই তাঁরা করেছেন নিরাপত্তার খাতিরে। 

হোয়াইট হাউজ সূত্রের খবর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আমেরিকা থেকে যে প্রতিনিধি দল চীনে গিয়েছিলেন, তাঁদের মোবাইল, ল্যাপটপ সবই আমেরিকায় রেখে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কেবলমাত্র ‘বার্নার ফোন’ ছিল প্রত্যেকের কাছে। কূটনৈতিক বিদেশযাত্রার জন্য এই ধরনের ফোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আসল বিষয় হল, এই ফোনগুলিতে কোনও আধুনিক সুযোগসুবিধা থাকে না। ফলে এই ধরনের ফোন ‘হ্যাক’ করলেও কোনও লাভ হয় না। সেই ফোনগুলিও চীনেই ফেলে গিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। 

এই সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে।

এমনকী, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন। ট্রাম্প নিজেও বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চীনের বিদেশ মন্ত্রক ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার কঠোর সমালোচনা করেছে। বেজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার।

চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেজিং হয়ত ইরানের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে।

যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা।