আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১২ ক্লাস অবধি পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তথা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০৯টি আসনে সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই বিরোধী গোষ্ঠী (জামায়েত-ই ইসলামী-সহ ১১ দলের গোষ্ঠী) বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বলে ডাকতে শুরু করেছে। 

বিএনপি-র হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে ‘তোলাবাজ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পটওয়ারি। তিনিই ফেসবুকে তারেককে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে এবং ফলাফল কারচুপির নানা অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। জামায়েত গোষ্ঠীর অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি করেছেন তারেক। তিনি নিজের ইচ্ছে মতো ফল পরিবর্তন করিয়েছেন। তাই তাঁকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে জামায়েত জোট গোষ্ঠী। এর পাশাপাশি বিরোধী গোষ্ঠী হুমকি দিয়েছে, বিএনপি যদি জুলাই সনদ এড়িয়ে যায় তাহলে, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

তারেকের এই নাম নিয়ে অনেক মিম ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। কেউ কেউ এআই দিয়ে ছবি এবং ভিডিও তৈরি করেছেন যেখানে তারেক রহমানকে ইঞ্জিনিয়ার টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কেউ কেউ নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বলে অভিহিত করেছেন। রহমানকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কটাক্ষ, বিএনপি নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে উপহাস করেছে।

ফলাফল ঘোষণার পর এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক তারেককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে ২০০-এর বেশি আসন নিশ্চিত করার জন্য তিনি কি কোনও ‘পন্থা’ অবলম্বন করেছেন কি না? পাশে বসা বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির যখন প্রশ্নটির উত্তর দিতে রাজি না হলেও, বিএনপি প্রধান শান্ত স্বরে উত্তর দেন যে তাদের একমাত্র ‘কৌশল ছিল জনগণকে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য রাজি করানো’।

কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ যা বুঝতে পারেনি বা ভুলে গিয়েছে তা হল, নির্বাচনের পিছনের আসল ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমান নন, বরং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করেছিলেন এবং পশ্চিমি দেশের অনুমোদন পেতে সক্ষম হয়েছিলেন।