আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইউক্রেন আক্রমণ করার জন্য শেষ পর্যন্ত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আফসোস করতে হতে পারে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নাকি এমনই বলেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

গত সপ্তাহে ট্রাম্পের বেজিং সফরের সময় দুই নেতার মধ্যে এই কথা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, বেজিংয়ের ওই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ নানা বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানেই ট্রাম্প উল্টে জিনপিংকে প্রস্তাব দেন, আইসিসি-র বিরুদ্ধে আমেরিকা, চীন ও রাশিয়ার একজোট হয়ে কাজ করা উচিত। কারণ এই আদালতের বিষয়ে তিন দেশেরই আপত্তি রয়েছে।

পুতিনের ইউক্রেন অভিযান নিয়ে জিনপিংয়ের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা। কারণ, এর আগে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও পুতিন বা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জিনপিং কখনও নিজের ব্যক্তিগত মতামত এভাবে খোলসা করেননি।  রবিবার ট্রাম্প সরকারের তরফ থেকে বৈঠকের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তাতে পুতিন বা ইউক্রেন প্রসঙ্গ অত্যন্ত কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প বেজিং ছাড়ার ঠিক চার দিনের মাথায় চীনে পৌঁছাচ্ছেন পুতিন। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগেই চীন ও রাশিয়া নিজেদের ‘পরম বন্ধু’ বলে ঘোষণা করেছিল। তা ছাড়া, এবার দুই দেশের মৈত্রী চুক্তির ২৫ বছরও পূর্ণ হচ্ছে। তার ঠিক আগেই জিনপিংয়ের এমন মন্তব্য ছড়াল।

গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ এখন একটা জায়গায় এসে থমকে গিয়েছে। সম্প্রতি মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে ইউক্রেন। 

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ব্র্যান্ডন বয়েলও ইউক্রেনের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন আধুনিক যুদ্ধের চোহারাটাই বদলে দিয়েছে। গত সপ্তাহে কিভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলার উত্তরেই ইউক্রেন এই পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বুকে এটাই সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ যুদ্ধ। এর জেরে পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি পুতিন দাবি করেছেন যে যুদ্ধ হয়তো শেষের মুখে, কিন্তু পাশাপাশি এও  সাফ জানান হয়েছে- যতক্ষণ না লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে, রাশিয়ার সেনা অভিযান থামবে না।