শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার লাহোরের বেশ কয়েকটি রাস্তার দেশভাগের আগের মূল নামগুলি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। সোমবার পাঞ্জাব প্রদেশের এক আধিকারিক এই বিষয়ে জানিয়েছেন।
2
12
কয়েক দশক ধরে লাহোরের অনেক রাস্তা, চত্বর এবং পাড়া পাকিস্তানের দেশভাগ-পরবর্তী পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত নাম বহন করত। কিন্তু এখন, শহরের কিছু প্রাচীনতম নাম— যা ১৯৪৭ সালের পর মুছে গিয়েছিল, আবার ফিরে আসতে পারে।
3
12
মরিয়ম নওয়াজের সভাপতিত্বে পাঞ্জাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তিনি লাহোর হেরিটেজ এরিয়াস রিভাইভাল প্রকল্পের প্রধান।
4
12
এই সিদ্ধান্তের ফলে হিন্দু, শিখ এবং জৈন সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত নামগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলি দেশভাগের আগে লাহোরের সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রধান অংশ গঠন করেছিল।
5
12
প্রস্তাবিত সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলি মধ্যে একটি হল কৃষ্ণনগরের প্রত্যাবর্তন। দেশভাগের পর ইসলামপুর নামে নামকরণ করা হয়েছিল। ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অধীনে আরও বেশ কয়েকটি নাম পরিবর্তন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
6
12
বছরের পর বছর ধরে, ঔপনিবেশিক আমলের এবং দেশভাগের আগের অনেক নাম পাকিস্তানি নেতা, ইসলামি ব্যক্তিত্ব বা দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের নাম দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
7
12
যে সকল রাস্তার পুরনো নাম ফিরে আসতে চলেছে, তার মধ্যে রয়েছে- ইসলামপুর হচ্ছে কৃষ্ণনগর, সুন্নতনগর হচ্ছে সন্তনগর, মুস্তাফাবাদ হচ্ছে ধরমপুরা, হামিদ নিজামি রোড হবে টেম্পল স্ট্রিট।
8
12
এছাড়াও, নিস্তার রোড হবে ব্র্যান্ড্রেথ রোড, রেহমান গলি হচ্ছে রাম গলি, বাবরি মসজিদ চক হবে জৈন মন্দির রোড, গাজিয়াবাদ হচ্ছে কুমারপুরা, জিলানি রোড হচ্ছে আউটফল রোড, ফাতিমা জিন্নাহ রোড হচ্ছে কুইন্স রোড।
9
12
আল্লামা ইকবাল রোড হচ্ছে জেল রোড, স্যার আগা খান রোড হচ্ছে ডেভিস রোড, বাগ-ই-জিন্নাহ রোড হচ্ছে লরেন্স রোড, শাহরাহ-ই-আব্দুল হামিদ বিন বদিস হচ্ছে এমপ্রেস রোড এবং মৌলানা জাফর আলি খান চক হচ্ছে লক্ষ্মী চক।
10
12
এর পাশাপাশি, নওয়াজ শরিফ মিন্টো পার্কে (যা এখন গ্রেটার ইকবাল পার্ক নামে পরিচিত) তিনটি ক্রিকেট মাঠ এবং একটি ঐতিহ্যবাহী কুস্তির আখড়া পুনরুদ্ধারের প্রস্তাবও করেছেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই স্থাপনাগুলি ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।
11
12
পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক মিন্টো পার্কের ক্লাবগুলিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন। দেশভাগের আগে কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার অমরনাথও সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
12
12
এই কুস্তির আখড়ায় একসময় গামা পালোয়ান, গুঙ্গা পালোয়ান এবং ইমাম বখশের মতো কিংবদন্তি কুস্তিগীররা কুস্তি লড়েছেন। দেশভাগের আগে, এই পার্কটি লাহোরের হিন্দু সম্প্রদায়ের দশেরা উদযাপনের একটি প্রধান স্থানও ছিল।