আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার রাতে ইরানে হামলা করার পরিকল্পনা ছিল ইজরায়েলের। কিন্তু তড়িঘড়ি সাতসকালে কেন ইরানে হামলা করল ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র? অবশেষে ফাঁস হল সেই আসল কারণ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর গোপন তথ্য ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ফাঁস করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে রাজধানী তেহরানে ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই সময় নিজের অফিসে কাজ করছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তিনিই গোপনে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। এই বৈঠকের তথ্য ছিল শুধুমাত্র তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে।
জানা গেছে, তেহরানে সকাল ন'টায় সেই বৈঠক করার কথা ছিল আলি খামেনেইর। সেই তথ্য ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে ফাঁস করে দিয়েছিলেন খামেনেইর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে একজন। যে হামলা রাতে হওয়ার কথা ছিল, খামেনেইর গোপন ডেরার খবর পেয়ে, তৎক্ষণাৎ তেহরানে হামলা শুরু করে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার উপদেষ্টা শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে নিরাপদ স্থানে বৈঠকে বসেছিলেন আলি খামেনেই। কিছুক্ষণ পরেই হামলা শুরু হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি বিমান হামলায় আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার আলি শামখানিও নিহত হয়েছেন। শামখানি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা। রবিবার সকালে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইও নিহত হয়েছেন।
ইরান সরকারের কোনও নেতাই ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে ফাঁস করেছিলেন, খামেনেই কোথায় রয়েছেন। কাদের সঙ্গে, কোন জায়গায়, কটা থেকে বৈঠক রয়েছে, সব খবর পৌঁছে গিয়েছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। সাধারণত এই ধরনের হামলা রাতের অন্ধকারে হয়। কিন্তু দিনের আলো ফুটতেই সেই সকাল ন'টার খানিকক্ষণ পরেই হামলা করে ইজরায়েল।
খামেনেইর মৃত্যুর পরেও ইরানে রবিবারেও হামলা করল ইজরায়েল। এদিন ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নতুন করে পশ্চিম ও মধ্য ইরানের ৩০টি জায়গায় তারা হামলা চালিয়েছে। এই হামলা জারি থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে মৃত্যুমিছিল ক্রমেই বাড়ছে।
অন্যদিকে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। খামেনেইর হত্যাকারীদের খতম করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
আজ সকালে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর’ হামলা শুরু হতে চলেছে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। একটি বিবৃতিতে তারা দাবি জানিয়েছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলাটা এ বার তারা করবে।
রবিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইরান খানিকক্ষণ আগেই জানিয়েছে, আজ তারা ভয়ঙ্কর হামলা করতে চলেছে। অতীতের সব হামলার তুলনায় এবার আরও ভয়ঙ্কর হামলা করতে চলেছে। ভাল হয়, যদি ওরা এটা না করে। আর যদি এমন হামলা ইরান করে, তবে আমরা বাহিনী নিয়ে পাল্টা এমন হামলা করব, যা আগে কখনও চোখে দেখেনি।'
