আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেনজির, কারাকাসে হামলার পরই মার্কিন বাহিনী সস্ত্রীক ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দি করেছে। যা নিয়ে তোলপাড় পড়েছে গোটা দুনিয়ায়। রাশিয়া ও ইরান এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তবে, হোয়াইট হাউসের পদক্ষেপে কিছুটা নরম সুর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধির।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া:

ভেনিজুয়েলার উপর মার্কিন বাহিনীর আক্রমণ সম্পর্কে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে...

'আজ সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে। এই ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং এর নিন্দা জানানো আবশ্যক। এই পদক্ষেপগুলোকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত অজুহাতগুলো মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদর্শগত শত্রুতা এবং আস্থা ও ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার যেকোনও ইচ্ছাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।'

রুশ বিবৃতিতে উল্লেখ, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে, উত্তেজনা রোধ করা এবং সংলাপের মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার উপর মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য। যেসব পক্ষের একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারে, তাদের অবশ্যই সংলাপ-ভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে। আমরা এই ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। ভেনেজুয়েলাকে অবশ্যই যেকোনও ধ্বংসাত্মক – বিশেষ করে সামরিক – বাহ্যিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে নিজের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।'

আরও বলা হয়েছে যে, 'আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি আমাদের সংহতি এবং দেশটির জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে বলিভারীয় নেতৃত্বের গৃহীত নীতির প্রতি আমাদের সমর্থন প্রকাশ করছি। আমরা ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর নেতাদের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক আহ্বানের আহ্বানকে সমর্থন করি। কারাকাসে রাশিয়ার দূতাবাস সেখানকার পরিস্থিতি বিবেচনাা করে কাজ করছে এবং ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ ও সেদেশে উপস্থিত রাশিয়ানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।'

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানের বিদেশমন্ত্রকও বিবৃতি জারি করেছে। বলা হয়েছে, 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিদেশমন্ত্রক ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন সামরিক হামলার এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার নির্লজ্জ লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন সামরিক হামলা রাষ্ট্রসংঘ সনদের মৌলিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নিয়মাবলীর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, বিশেষ করে সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন, যা শক্তি প্রয়োগের হুমকি বা ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে একটি আগ্রাসনমূলক কাজ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। জাতিসংঘ এবং আইনের শাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সকল রাষ্ট্র, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বিশ্বাসী সকল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর সুস্পষ্ট ও অবিলম্বে নিন্দা জানানো উচিত।'

এছাড়াও উল্লেখ, 'রাষ্ট্রসংঘের সদস্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর লঙ্ঘন। এর পরিণতি সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে এবং রাষ্ট্রসংঘ সনদ-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে আরও ক্ষয় ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।'

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ বিষয় ও নিরাপত্তা নীতির উচ্চ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজা কাল্লাস। মার্কিন হামলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি। 

এক্স-বার্তায় তিনি লিখেছেন, 'আমি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং কারাকাসে আমাদের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বারবার বলেছে যে, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর কোনও বৈধতা নেই এবং একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। সব পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘ সনদের নীতিগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আমরা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।'

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলা প্রেসিডেন্টের জীবিত থাকার প্রমাণ  দাবি করেছে।