আজকাল ওয়েবডেস্ক: অপরাধ করেছেন। জ্ঞানত। কিন্তু জ্ঞানত ঘটানো সেই অপরাধের শাস্তি যখন মাথার উওর, তখন? বাঁচার উপায় কী? খুঁজতে খুঁজতে দেশের আইনকে ঘোল খাওয়ানোর যে ফন্দি-ফিকির বেছে নিয়েছিলেন তিনি, তা সামনে আসতেই ব্যাপক হইচই। মাথায় হাত এক পক্ষের। কারণ? কারণ, যুবতী নিজের জেলযাত্রা বাঁচাতে বেছে নিয়েছিলেন লাগাতার সঙ্গম-যৌনতাকে। তার পিছনেই কারণ ছিল। কারণ? মা হওয়া। দেশের আইনে, একমাত্র মা হলেই, জেল যাওয়া থেকে বাঁচতে পারতেন তিনি। একইভাবে টানা তিনবার মা হয়েছেন চার বছরে। আর বছরের পর বছর পিছিয়েছেন হাজতবাস। 


চীনের শানসি প্রদেশের চেন হং। তিনি বছরের পর বছর ধরে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে ব্যাপক জালিয়াতির দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। কিন্তু তারপর? জেলবাস? ভেবেই আরও ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করে বসেন চেন। চেন জানতেন তাঁর দেশের নিয়ম। যে নিয়মকে রীতিমতো ঘোল খাইয়েছেন তিনি গত কয়েকবছরে।

আরও পড়ুন: সবার অলক্ষ্যে শাহজাহান-মুমতাজের কবরে ঢুকে পড়লেন এক পর্যটক, তাজমহলের গোপন স্থানে গিয়ে চমকে গেলেন, দেখুন

কী সেই নিয়ম চীনের? যার জন্য মা হওয়া বেছে নিয়েছেন চেন, তাও চার বছরে তিনবার। ওই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে তথ্য, চীনা আইন গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের তাঁদের কারাদণ্ড স্থগিত করার অনুমতি দেয়। অর্থাৎ ওই সময়কালে দোষী নিজের এবং মূলত সন্তানের জন্য হাতবাসের বাইরে থাকতে পারেন বলেই সূত্রের খবর। জানা যায়, নিয়মের স্রেফ এই জায়গাটিকেই কাজে লাগিয়েছেন চেন।  তিনি এক যুবককে নাকি বেছে নিয়েছিলেন নিজেকে বাঁচানোর জন্য। ওই যুবকের সঙ্গেই তিনি টানা কয়েকবছর বসবাস, সঙ্গম,যৌনতা সম্পন্ন করেন। চার বছরে তিন সন্তানের জন্ম দেন।

ঘটনায় অবাক তদন্তকারীরা। কিন্তু আরও অবাক হওয়ার পালা বাকি ছিল, তা জানতেন না তদন্তকারী আধিকারিকরা। তদন্তে নেমে জানতে পারেন, নিজেকে বাঁচাতে সন্তান জন্ম-কে কেবল ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন চেন। কাজে লাগিয়েছিলেন চীনের নিয়মের ফাঁক-ফোকরকে। ইতিমধ্যেই ওই যুবক এবং তিন সন্তানের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। নিজের কাজ মিটে যাওয়ার পরেই, তিনি সন্তানদের ফেলে অন্যত্র চলে যান। 

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, চেন তাঁর তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন মে মাসে। তদন্তকারী আধিকারিকেরা তদন্তে নেমে জানতে পারেন, জন্ম নেওয়া তিন সন্তানের,খাতায়-কলমে কারও মা নন চেন। এক শিশুর কাগজ-কলমে বাবা মায়ের জায়গায় নাম লেখা রয়েছে ওই যুবকের বাবা-মায়ের। এক শিশুর মা অফিসিয়ালি যুবকের দিদি। তদন্তকারী আধিকারিকরা চেনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালালে, তিনি জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। জানা গিয়েছে, প্রথম দুই সন্তান প্রাক্তন স্বামীর কাছে এবং চতুর্থ সন্তান যুবকের দিদির কাছে রয়েছে। 

জিয়াংসু প্রদেশের ইয়ানচেং শহরের আইন কর্মকর্তারা ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মতামত দিয়েছেন, হংয়ের মতো মামলাগুলি আইনের ফাঁক-ফোকর প্রকাশ করে। তাঁদের পরামর্শ, বারবার গর্ভধারণের মাধ্যমে সাজা অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্বিত করার পরিবর্তে, আদালতের উচিত সাময়িকভাবে শাস্তি স্থগিত করা এবং পরে তা পুনরায় চালু করা। তাদের বিশ্বাস, এই পদ্ধতিটি ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করবে এবং নিশ্চিত করবে যে অনাগত শিশুদের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে। 

চীনে, কিছু বন্দী যদি খুব অসুস্থ, গর্ভবতী, নবজাতকের যত্ন নিতে পারে বা নিজেদের যত্ন নিতে না পারে তবে তাদের কারাগারে থাকতে হবে না। পরিবর্তে, তারা কারাগারের বাইরে তাদের সাজা ভোগ করতে পারে। স্থানীয় সংশোধন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তারা বাড়িতে বা হাসপাতালে থাকতে পারে। এই ধরনের বন্দীদের তাদের অবস্থা দেখানোর জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর চিকিৎসা বা গর্ভাবস্থার পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মগুলি সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত পরীক্ষাও করে।