আজকাল ওয়েবডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা আবহাওয়ার চরমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নীরব কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করছেন, গরম জলে বসবাসকারী কিছু বিপজ্জনক অ্যামিবা ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এই অণুজীবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হল নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি যাকে সাধারণভাবে “ব্রেইন-ইটিং অ্যামিবা” বলা হয়।
নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি সাধারণত গরম জলে যেমন হ্রদ, নদী, গরম জলের ঝর্ণা এবং সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা সুইমিং পুলে—বেঁচে থাকে। জল যখন নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে, তখন এই অ্যামিবা মস্তিষ্কে পৌঁছে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যার নাম প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস। এই রোগটি অত্যন্ত বিরল হলেও মৃত্যুহার ৯৭ শতাংশের বেশি, যা একে বিশেষভাবে আতঙ্কজনক করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে জলের তাপমাত্রা বাড়ছে, ফলে এই ধরনের অ্যামিবার বংশবিস্তার ও বিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আগে যেখানে এসব অ্যামিবা মূলত উষ্ণ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেগুলো অপেক্ষাকৃত শীতল দেশেও শনাক্ত হচ্ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
শুধু নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি নয়, আকান্থামিবা এবং বালামুথিয়া ম্যান্ড্রিলারিস নামের আরও কিছু অ্যামিবাও মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো চোখ, ত্বক ও স্নায়ুতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।
এই পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, গরম জলে সাঁতার কাটার সময় নাক চেপে রাখা বা নাক ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নিতে। শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ তারা জলে খেলাধুলার সময় নাক দিয়ে জল ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, নাক পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত জল অবশ্যই ফুটিয়ে ঠান্ডা করা বা পরিশোধিত হওয়া উচিত।
সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে জলের মান পর্যবেক্ষণ করা এবং এমন এলাকাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই ধরনের অদৃশ্য সমস্যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
উষ্ণ পৃথিবীতে শুধু আবহাওয়াই বদলাচ্ছে না, বদলাচ্ছে রোগের মানচিত্রও। বিপজ্জনক অ্যামিবার বিস্তার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার মূল্য মানুষকেই দিতে হয়—কখনও কখনও জীবন দিয়ে।
