আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব যখন ভেনেজুয়েলার নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে, তখন হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল এক অদ্ভুত বিষয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তোলে। ক্ষমতার এমন নাটকীয় পতনের মুহূর্তে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া, কূটনৈতিক টানাপোড়েন বা সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা—সবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এসবের পাশাপাশি, পর্দার আড়ালে চলছিল আরেকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা: বিশ্বজুড়ে মানুষের কেনাকাটার হিড়িক।
গ্রেপ্তারের পর প্রথম যে ছবিটি প্রকাশ্যে আসে, তাতে মাদুরোকে দেখা যায় একটি সাধারণ ধূসর রঙের নাইকি ট্র্যাকস্যুট পরে থাকতে। ছবিটি মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বিস্ময়ের বিষয়, বিশ্ব রাজনীতির এই বড়সড় ধাক্কার মাঝেও মানুষের নজর আটকে গেল তাঁর পরনের ট্র্যাকস্যুটে।
ইন্টারনেট যে কতটা অপ্রত্যাশিত, তার আরেকটি উদাহরণ তৈরি হল এখানে। ধূসর নাইকি ফ্লিস ট্র্যাকস্যুটটি নিয়ে শুরু হয়ে গেল সার্চ, মিম, আলোচনা এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাপক কেনাকাটা। নাইকিকে আলাদা করে কোনো বিজ্ঞাপনও দিতে হয়নি। মানুষের কৌতূহল আর ভাইরাল সংস্কৃতিই যথেষ্ট ছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নির্দিষ্ট সেই ধূসর রঙের ট্র্যাকস্যুট বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়।
ভারতে এই ট্র্যাকস্যুটের দাম সাধারণত ৬,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকার মধ্যে। অন্যান্য রঙ এখনও কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও, মাদুরোর পরা ধূসর রঙের সেট কার্যত স্টক আউট। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে সোল্ড আউট ট্যাগ যেন নতুন ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনাটি আসলে ‘সেলিব্রিটি এফেক্ট’-এরই আরেক রূপ। বহু বছর ধরেই মানুষ সিনেমার তারকা, ক্রীড়াবিদ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের পোশাক অনুকরণ করে আসছে। কখনও তা স্ট্যাটাসের প্রতীক, কখনও ফ্যাশনের প্রতি ভালোবাসা। তবে কোনও বিশ্বনেতার পোশাক হঠাৎ করে ট্রেন্ডে পরিণত হওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল।
মাদুরোর ট্র্যাকস্যুটের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে আজকের যুগে ক্ষমতা, রাজনীতি আর ফ্যাশন কতটা অদ্ভুতভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। একদিকে এক দেশের নেতার পতন, অন্যদিকে সেই মুহূর্তের পোশাক হয়ে উঠছে গ্লোবাল স্টাইল স্টেটমেন্ট। ভাইরাল দুনিয়ায়, কখন কী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে, তা কেউই আগে থেকে বলতে পারে না।
