আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ানক বিমান হামলায় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের শহরগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যার ফলে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা শহর। রাস্তাঘাট ফাঁকা, দোকানপাট বন্ধ, জনজীবন সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

দেশজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কারাকাসে বসবাসরত ক্ষুদ্র ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য সুনীল মালহোত্রা জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শহরের।

একমুঠো খাবারের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মানুষকে। দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে আতঙ্ক। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালহোত্রা জানান, ‘ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। কারাকাসের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে দেশের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুয়ের্তে তিউনা এলাকা, সেখানেই হামলার প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ।’

উল্লেখ্য, মার্কিন হামলার পর শহরের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহন পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে কারাকাস। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সুনীল মালহোত্রা জানান, কারাকাসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে ভারতীয় দূতাবাস ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছে এবং সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও তথ্য জানানো হচ্ছে।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেনা কারাকাসে বিমান হামলা চালায়। প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার সমাজকে ধ্বংস করতে মাদক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাদুরো। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার।

উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার এই দেশে হামলার পর বিবৃতি দিয়েছে ভারত সরকারও। জানানো হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমরা পরিস্থিতির উপর গভীর নজর রাখছি। ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যাগুলি সমাধানের আহ্বান জানাই, যাতে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। কারাকাসে ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান করবে।’

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলা এবং তাঁর নেতার বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এক অভিযানে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে দেশ থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার উপর হামলা চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।