আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েক বছরের টানাপোড়েন আর কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে এক অভাবনীয় উষ্ণতার সাক্ষী হল বেজিং। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন জিনপিংবৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে সুর তুললেন, তা এক কথায় ইতিবাচক এবং সমঝোতামূলক। জিনপিংয়ের মতে, চীনের ‘গ্রেট রেজুভেনেশন’ বা পুনরুত্থানের স্বপ্ন এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’—এই দুই লক্ষ্য একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। দুই শক্তিশালী রাষ্ট্র যদি সদিচ্ছা দেখায়, তবে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির এই মেলবন্ধন গোটা পৃথিবীর জন্যই স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে।

সারা বিশ্বের নজর ছিল এই ভোজসভার দিকে। সেখানে নিজের বক্তৃতায় জিনপিং বর্তমান বিশ্বে চীন-মার্কিন সম্পর্ককে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এক হুঁশিয়ারির সুরে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুপক্ষেরই দায়িত্ব হল এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, একে কোনওভাবেই ‘নষ্ট’ করা চলবে না। জিনপিং বলেন, “চীন এবং আমেরিকা—উভয় দেশের মানুষই মহান। আমরা যদি একে অপরকে সফল হতে সাহায্য করি, তবে তা কেবল আমাদের দুই দেশের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের কল্যাণ বয়ে আনবে।” বারবার তিনি সংঘাতের বদলে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, লড়াই করলে দুই দেশেরই ক্ষতি, আর হাতে হাত মিলিয়ে চললে লাভ উভয়েরই।

শি জিনপিংয়ের এই বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তার পাল্টায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউস সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় ফিরে যান ইতিহাসের পাতায়। ১৭৮৪ সালে প্রথম মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এবং কনসাল স্যামুয়েল শ-এর চীন পৌঁছানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই আড়াইশ বছর আগের সামান্য সংযোগ আজ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ওয়াশিংটনের প্রতি চীনা কর্মকর্তাদের যে শ্রদ্ধা একসময় ছিল, সেই ঐতিহাসিক পাথরখণ্ডের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বোঝাতে চান, দুই দেশের মানুষের মধ্যেই একে অপরের প্রতি গভীর অনুরাগ রয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক চলে। জিনপিং জানান, কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রেখে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে তাঁরা দুজনেই একমত হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, পরিশ্রম, সাহস এবং সাফল্যের যে অভিন্ন মূল্যবোধ দুই দেশ ভাগ করে নেয়, তা বিশ্বকে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে পৃথিবীটা অন্যরকম হবে’—ট্রাম্পের এই মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যকার জমে থাকা বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাচ্ছেন কূটনীতিকরা। বাণিজ্য যুদ্ধ আর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির গতানুগতিক ছক ভেঙে বেজিংয়ের এই নৈশভোজ কি বিশ্ব রাজনীতির নতুন কোনও  সমীকরণ তৈরি করবে? উত্তরটা সময়ের হাতে থাকলেও, আপাতত দুদেশের এই ‘হ্যান্ডশেক’ বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।