পাখিরাও আড়ি পেতে কথা শোনে! কোন শব্দে কী বোঝায় পাখিরা? জানালেন বিজ্ঞানীরা
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৪ মে ২০২৬ ১৮ : ২৮
শেয়ার করুন
1
11
কখনও লক্ষ করেছেন, পাখির কিচিরমিচিরে মুখর চারদিক হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেল! কোথাও কোনও শব্দ নেই, যেন কেউ সুইচ বন্ধ করে দিয়েছে।
2
11
নতুন এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পাখিরা একে অপরের ভাষা ‘আড়ি পেতে’ শোনে, এবং বিপদের আভাস পেলেই গোটা সম্প্রদায় মুহূর্তেই স্বরবিরতি-তে চলে যায়।
3
11
এ যেন প্রকৃতির এক নিজস্ব, অদৃশ্য ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’। বিজ্ঞানীরা জঙ্গলে আমেরিকান গোশক (American Goshawk)-এর ডাক বাজিয়েছিলেন। গোশক বহু পাখির শিকারী হিসেবে কুখ্যাত।
4
11
মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গোটা জঙ্গলের পাখিরা চুপ। এক-দু’টি প্রজাতি নয়— পুরো জঙ্গলে যত পাখি ছিল সকলে চুপ৷ পাখিরা শিকারীকে দেখলও না— শুধু কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝে গেল বিপদ আসছে। এক ঘণ্টা পরেও এই স্তব্ধতা পুরোপুরি কাটেনি।
5
11
দীর্ঘদিন বিজ্ঞানীরা দ্বন্দ্বে ছিলেন, বিপদ বুঝলে পাখিরা কি বেশি ডাকে (অন্যদের সতর্ক করতে), না কি চুপ থাকে (নিজেকে লুকাতে)?
6
11
এই গবেষণা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করল— চুপ থাকাই তাদের প্রাথমিক কৌশল। মন্টানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এরিক গ্রিন বহুদিন ধরে ছোট্ট পাখি ‘মাউন্টেন চিকাডি’-র উপর কাজ করছেন। তিনি দেখেছেন— এই পাখির ভাষা প্রায় মানুষের শব্দভাণ্ডারের মতো জটিল।
7
11
কোন শব্দের কী মানে? ‘চিকাডি-ডি-ডি’: সাধারণ ডাক, পরস্পরকে সংযুক্ত রাখে।
উচ্চ-স্বরের তীক্ষ্ণ ‘সিট’ শব্দ: উড়ন্ত বাজপাখির ‘সিট’ শুনে অন্য পাখিরা নীরব হয়ে আকাশের দিকে তাকায়, তারপর ঝোপে লুকিয়ে পড়ে৷
8
11
দীর্ঘতর ‘চিকাডি-ডি-ডি-ডি-ডি’: অন্য পাখিরা ছুটে এসে দলবদ্ধভাবে শিকারীকে ঘিরে ফেলে৷
শিকারী যত ভয়ঙ্কর, তত বেশিবার ‘ডি’ উচ্চারিত হয়। যেন বিপদের মাত্রা মাপার এক জীবন্ত পরিমাপক।
9
11
এক পাখির বিপদ-সংকেত অন্য প্রজাতির পাখিরাও বোঝে এবং প্রতিক্রিয়া দেয়। শুধু পাখি নয়— কাঠবিড়ালি, বাঁদর— এমনকি ভিন্ন মহাদেশের পাখিরাও চিকাডির ‘সিট’ শুনে লুকিয়ে যায়।
10
11
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফরেস্ট ফিয়ার ল্যাব’-এর গবেষণা দেখিয়েছে, ১০০ গ্রামের কম ওজনের ছোট পাখিরাই এই ‘অ্যালার্ম-নেটওয়ার্কে’র মূল বার্তাবাহক। অরণ্য তখন এক বিরাট ‘এমার্জেন্সি ব্রডকাস্ট সিস্টেম’।
11
11
কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, শহর ও যানবাহনের শব্দে পাখিরা ভিন্ন প্রজাতির বিপদ-সংকেত শুনতে পায় না, অসময়ে শিকারীর মুখে পড়ে। এই সমস্যা সরাসরি বন্যপ্রাণীদের জীবন বিপন্ন করছে৷