আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের জীবন কত বৈচিত্র্যময় এবং জটিল হতে পারে, তার প্রমাণ মেলে দৈনন্দিন সম্পর্কের টানাপোড়েনে। কখনও প্রতিবেশীর একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে নিজের ফায়দা লোটা, আবার কখনও ভালোবাসার নামে স্রেফ আর্থিক প্রতারণার শিকার হওয়া—এমনই কিছু মর্মস্পর্শী ও বাস্তব জীবনের গল্প উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। এই প্রতিটি ঘটনার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে মানুষের অসহায়ত্ব, লালসা এবং সঠিক সিদ্ধান্তের অভাব।

প্রথম ঘটনাটি এক ব্যক্তির দোটানা নিয়ে, যিনি নিজের দীর্ঘদিনের সঙ্গিনীর সাথে ঝগড়া হলেই আশ্রয় খোঁজেন প্রতিবেশিনীর কাছে। ওই প্রতিবেশী মহিলা সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদের যন্ত্রণায় দগ্ধ এবং প্রচণ্ড একাকী। তিনি এখন তাঁর এই প্রতিবেশীর ওপর অনেকটা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। সারাদিন টেক্সট মেসেজ পাঠানো থেকে শুরু করে রাতে মদ্যপ অবস্থায় নিজের আপত্তিকর ছবি পাঠানো—সবই করছেন তিনি। ওই ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রতিবেশিনীর বাড়ির ভালো খাবার এবং বিয়ারে মুগ্ধ, এমনকি তাঁর প্রাচুর্যের প্রতিও এক ধরনের আকর্ষণ বোধ করছেন। কিন্তু একই সাথে নিজের পুরনো সঙ্গিনীর জন্যেও মনে টান অনুভব করছেন। সম্পর্কের এই সুবিধাবাদী অবস্থান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্রেফ অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য বা বাড়ির মালিকানা দেখে কারও সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অন্যায়। যদি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা না থাকে, তবে প্রতিবেশিনীর একাকীত্বের সুযোগ নেওয়াটা অমানবিক। এমনকি ওই ব্যক্তির উচিত নিজের সঙ্গিনীর সাথে বসে সমস্যার সমাধান করা অথবা সম্পর্কটি সম্মানের সাথে শেষ করা।

অন্য এক মহিলার গল্পটি বেশ যন্ত্রণাদায়ক। তিনি তাঁর পছন্দের মানুষকে পাগলের মতো ভালোবাসেন, কিন্তু সেই ব্যক্তিটি কেবল একে ‘সামান্য মজা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলেও কোনও  রকম দায়বদ্ধতা বা সিরিয়াস সম্পর্কে জড়াতে নারাজ। ওই মহিলা এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন যে তিনি কি স্রেফ 'বন্ধু' হিসেবে থেকে যাবেন নাকি নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে সরে দাঁড়াবেন। এই পরিস্থিতিতে পরামর্শ একটাই—কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে নিজের জীবনে আটকে রাখা অসম্ভব। পৃথিবীর শেষ মানুষটি তিনি নন, তাই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এমন একজনের জন্য সময় নষ্ট করা নিরর্থক যিনি আপনাকে মূল্যায়ন করেন না।

প্রতারণার শিকার হওয়া এক পুরুষের কাহিনী আরও করুণ। তিনি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার ঋণের বোঝা মিটিয়েছেন, দুহাত ভরে উপহার দিয়েছেন, কিন্তু শেষে জানতে পেরেছেন সেই মহিলা আসলে তাঁর পুরনো প্রেমিকের কাছেই ফিরে গেছেন। ওই মহিলা কেবল টাকার জন্যই এই সম্পর্কটি টিকিয়ে রেখেছিলেন এবং আড়ালে পুরনো প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। প্রতারিত এই ব্যক্তি এখন চরম রাগে প্রতিশোধ নিতে চাইছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে নিজের হারানো টাকা উদ্ধারের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া বা সলিসিটরের সাথে কথা বলা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। রাগ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়, তাই নিজেকে শক্ত করে নতুন করে পথ চলাই হবে আসল বিজয়।

সবশেষে উঠে এসেছে এমন এক মহিলার কথা, যাঁর প্রেমিক বিদেশ থেকে কাজ সেরে ফিরে আসার পর তিনি লক্ষ্য করেছেন লোকটির আচরণ বদলে গেছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি উদ্ধত এবং অহংকারী হয়ে ওঠা সেই প্রেমিকের প্রতি এখন তিনি আর কোনও  আকর্ষণ বোধ করছেন না। এমনকি লোকটির বিদেশ বিভুঁইয়ে অন্য মহিলা সাথে মেলামেশার ব্যাপারেও তাঁর ঘোর সন্দেহ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সবার আগে নিজের যৌন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। যদি ভালোবাসা এবং বিশ্বাসের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়, তবে সেই সম্পর্ক বয়ে বেড়ানোর চেয়ে ইতি টানাই শ্রেয়।

এই প্রতিটি ঘটনাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সম্পর্ক কোনও  গাণিতিক সমীকরণ নয়। এখানে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সততা না থাকলে তা কেবল মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে জীবন কেবল একটি অস্বস্তিকর স্মৃতির সমষ্টিতে পরিণত হয়।