আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে Jeffrey Epstein–সংক্রান্ত নথিপত্র। মার্কিন বিচার বিভাগ শিগগিরই এপস্টেইন ফাইলের পরবর্তী দফার নথি প্রকাশ করতে পারে বলে জানিয়েছে The Wall Street Journal। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নথিগুলির মধ্যে এমন কিছু FBI রেকর্ড রয়েছে যেখানে এক মহিলার যাচাই না হওয়া অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও উল্লেখ রয়েছে।

মার্কিন United States Department of Justice জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এই নথিগুলি প্রকাশ করা হতে পারে। তবে এর মধ্যেই জানা গেছে, বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করা নথির তালিকা থেকে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি ফাইল হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, মোট ৪৭,৬৩৫টি ফাইল সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলি পুনরায় পর্যালোচনার পর আবার প্রকাশ করা হবে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ফাইলগুলির মধ্যে FBI–এর সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত নথি রয়েছে, যেগুলিকে ‘ফর্ম ৩০২’ বলা হয়। এই নথিতে ২০১৯ সালে এক মহিলার সঙ্গে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের বিবরণ রয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে ১৯৮০–এর দশকে তিনি নাবালিকা থাকা অবস্থায় এপস্টেইন এবং ট্রাম্প উভয়ের বিরুদ্ধেই যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন।

তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ওই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি। এর আগেও প্রকাশিত কিছু নথিতে অনুরূপ অভিযোগের উল্লেখ ছিল, যেগুলিও প্রমাণিত নয়। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিগুলি তাঁকে “সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণ করেছে”।

এ বছরের ৩০ জানুয়ারি Epstein Files Transparency Act–এর অধীনে বিচার বিভাগ এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগী Ghislaine Maxwell–কে ঘিরে লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার সরকারি নথি প্রকাশ করে। ওই আইনের লক্ষ্য ছিল এপস্টেইন কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সরকারি রেকর্ডগুলিকে জনসমক্ষে আনা।

প্রথম দফার নথিতে ওই মহিলার সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে এপস্টেইন দক্ষিণ ক্যারোলিনায় তাকে নির্যাতন করেছিলেন। তবে আরও তিনটি সাক্ষাৎকার নথি, যেখানে ট্রাম্পের উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

কেন ওই নথিগুলি বাদ পড়েছিল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বিচার বিভাগ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু নথি হয়তো ভুলভাবে ট্যাগ করা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা এবং যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট ছবি সরিয়ে দেওয়ার জন্যও নথিগুলি পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।

বিচার বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, “ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ বিচার বিভাগ এটি।” তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সম্পাদনা ও গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা শেষ হলে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথিই প্রকাশ করা হবে।

আইন অনুযায়ী, যদি কোনও নথি পুনরাবৃত্তি হয়, আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকে, তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হয় বা এপস্টেইন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়—তাহলে তা প্রকাশ না–ও করা যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র জনসমক্ষে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বিব্রত করতে পারে বলে নথি আটকে রাখা যাবে না। এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ইতিমধ্যেই এই নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ওই মহিলা এপস্টেইনের সম্পত্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেখানে অভিযোগ ছিল, কিশোরী বয়সে এপস্টেইন তাকে নির্যাতন করেছিলেন এবং ধনী ব্যক্তিদের কাছে পাচার করেছিলেন। যদিও মামলায় কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং ২০২১ সালে সেটি স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করা হয়।

বিচার বিভাগ আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, সাধারণ মানুষ যে তথ্য বা অভিযোগ এফবিআই–কে দেয় তার মধ্যে অনেক সময় মিথ্যা বা যাচাই না হওয়া দাবি থাকতে পারে। তাই নতুন নথি প্রকাশের আগেই সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।