আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই ইন্টারন্যাশনালের ওপর। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত মার্চ মাসে এই বিমানবন্দরে যাত্রী সমাগম আগের বছরের তুলনায় এক ধাক্কায় ৬৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত এবং নিরাপত্তার অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরো বছরের প্রথম তিন মাসের হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে, বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে যাত্রী সংখ্যা প্রায় ২১ শতাংশ কমে ২.৫ মিলিয়নের ঘরে নেমে এসেছে। এর নেপথ্যে কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, বরং ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং মাঝেমধ্যেই আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো বড় ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি বিমানবন্দরের খুব কাছে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন আছড়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটায় সুরক্ষার খাতিরে বেশ কিছু সময় বিমান পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অবাক করার মতো বিষয় হল, এই চরম সংকটের মধ্যেও দুবাই বিমানবন্দরের জন্য সবথেকে বড় বাজার হিসেবে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে ভারত। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মার্চ মাসের এই কঠিন সময়েও প্রায় ২৫ লক্ষ যাত্রী ভারত থেকে দুবাই যাতায়াত করেছেন। গন্তব্য হিসেবে লন্ডন এখনও তালিকার শীর্ষে থাকলেও ভারতের মুম্বই এবং সৌদি আরবের জেড্ডার মতো শহরগুলো দুবাইয়ের ট্রাফিক সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

তবে এই মন্দার মেঘ খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেই আশা করছেন দুবাই এয়ারপোর্টের সিইও পল গ্রিফিথস। তাঁর মতে, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই ফের আগের ছন্দে ফিরবে এই ট্রানজিট হাব। ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের মতো বেশ কিছু বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই কাতার, বাহরাইন এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে তাদের পরিষেবা পুনরায় স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতার দিকে, কারণ তার ওপরেই নির্ভর করছে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের আগামী ভবিষ্যৎ।