আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী খুলতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ইরানকে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নির্ধারিত সময়সীমা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলোর উপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
নিজের 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "মঙ্গলবার, রাত ৮:০০টা (ইস্টার্ন টাইম)!"—তবে এর বাইরে তিনি আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের কাছে। পাঁচ সপ্তাহ আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের এই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে দুনিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। আড়ালে-আবড়লে বহু দেশ এই পরিস্থিতির জন্য দুষছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। এরপরই ওই প্রণালী খুলতে ইরানেকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন। এরপর তা বাড়িয়ে দশ দিন করেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তা আরও ২৪ ঘন্টা বাড়ালেন।
অশালীন শব্দে ভরা আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, 'ইরানের জন্য মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের দিন এবং সেতু ধ্বংসের দিন - সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।' তিনি এই মুসলিম দেশটির জ্বালানি ও পরিবহন পরিকাঠামোগুলোর ওপর হামলার হুমকি দেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, হয় হরমুজ জলপথটি ফের খুলে দাও, নয়তো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলোর ওপর ব্যাপক সামরিক হামলার মুখোমুখি হও। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের কথাবার্তায় কঠোরতার ছাপ স্পষ্ট। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ও প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, আলোচনার ইতি ঘটলে পুরো ইরান জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসতে পারে।
'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "যদি তারা (ইরান) কথা না রাখে, যদি তারা জলপথটি বন্ধই রাখতে চায়, তবে পুরো দেশে তাদের যতগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য ঘাঁটি রয়েছে, তার সবকিছুই তারা হারাবে।"
রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানকে আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, নয়তো "তারা নরক দেখবে।"
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, 'মনে আছে কি, আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার কিংবা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য দশ দিনের সময় দিয়েছিলাম? সময় ফুরিয়ে আসছে - আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, এরপরই ওদের ওরা সর্বগ্রাসী নরক দেখবে। ঈশ্বরের মহিমা ঘোষিত হোক! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।"
পাল্টা কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার ইরানের
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুসারে, ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে যে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যদি ইরানের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে তেল ঘাঁটি বা অসামরিক পরিকাঠামোর মতো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, তবে তারা সমগ্র অঞ্চলজুড়ে একই লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করবে।
চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে তেহরান ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর পরিকাঠামোকে নিশানা করেছে এবং আরব উপদ্বীপের অদূরে অবস্থিত আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ—'বাব আল-মানদেব প্রণালী' অবরুদ্ধ করে ফেলার হুমকি দিয়েছে।
এই সংঘাতে উভয় পক্ষই অসামরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিকাঠামো ও ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে তেলক্ষেত্র এবং সুপেয় পানি সরবরাহকারী বিশোধন কেন্দ্রসমূহ। রাষ্ট্রসংঘে অবস্থিত ইরানের মিশন ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তাকে "যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায়ের স্পষ্ট প্রমাণ" হিসেবে অভিহিত করেছে।
















