‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ বা ৩ডি নীতি কার্যকর হতেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে ক্রমশ ভিড় বাড়ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশে ফেরার তোড়জোড় করা শুরু করেছেন।
2
15
অবৈধ বাংলাদেশীদের শনাক্ত করে রাজ্যের নানা হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে। কোনও আইনি ঝামেলায় না গিয়ে বিএসএফ তাঁদের বিজিবি-র হাতে তুলে দিচ্ছে।
3
15
বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছেন যাঁরা, তাঁরা অনেকেই বছরের পর বছর ধরে কীভাবে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, সেই সম্পর্কে জানিয়েছেন।
4
15
ভারতীয় পরিচয়পত্র ও সরকারি সুবিধা পেতে তাঁরা দালাল চক্র, জাল কাগজপত্র এবং রাজনৈতিক সহায়তার কথাও বর্ণনা করেছেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আউটলুক’ নিজেদের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরেছে।
5
15
বেশ কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁরা দালালদের সাহায্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদী ও কৃষি এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে, দালালরা রাতে বিএসএফ-এর টহলের গতিবিধির উপর নজর রাখত। ফাঁকা সময় পেলেই সীমান্ত পার করানো হত।
6
15
তিনি জানিয়েছেন, কখনও কখনও সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগের জন্য সারারাত অপেক্ষা করতে হত, আবার অন্য সময়ে ভারতে প্রবেশ করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগত।
7
15
তিনি দাবি করেছেন, দালাল চক্রটি সীমন্ত পার করাতে জনপ্রতি প্রায় ৭,০০০-৮,০০০ টাকা নিত। বেঙ্গালুরুতে কাজ করছেন এক পরিযায়ী জানিয়েছেন, ভারতে প্রবেশের পর ২,০০০-৩,০০০ টাকায় আধার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
8
15
অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতারা রেশন কার্ড, ভোটার কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এমনকি রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের টাকা পাওয়ার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছিল।
9
15
অবৈধ অনুপ্রবেশ কারণে সীমান্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামোর দিকেও নজর দিয়েছে কেন্দ্র। কনরাড সাংমা সম্প্রতি জানিয়েছেন, মেঘালয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ প্রায় শেষের দিকে, মাত্র ৪০-৪৫ কিলোমিটার বাকি রয়েছে।
10
15
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৭৯ শতাংশে বেড়া দেওয়া হয়ে গিয়েছে।
11
15
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলার বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৬০০ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
12
15
সীমান্ত ট্রানজিট পয়েন্টের কাছে অপেক্ষারত বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, তাঁরা বছরের পর বছর ভারতে থাকছিলেন। অনেকে তো তাঁদের জীবনের বেশিরভাগ সময় এই দেশেই কাটিয়েছেন।
13
15
একজন অনুপ্রবেশকারী এবিপি নিউজকে জানিয়েছেন যে, তাঁর বাবা-মা তাঁকে প্রায় ১০ বছর বয়সে ভারতে নিয়ে আসেন এবং তাঁর পরিবারকে বছরের পর বছর ধরে কোনও রকম নজরদারির আওতায় আসতে হয়নি। তাঁরা কাঠমিস্ত্রীর কাজ করতেন।
14
15
তাহলে এখন তাঁরা ফিরছেন কেন? সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা জানিয়েছেন, নতুন সরকার আসার পরে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকর হওয়ায় যাতে হোল্ডিং সেন্টারে না যেতে হয় এবং পুলিশি প্রশ্নের মুখে যাতে না পড়তে হয়, তাই তাঁরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন।
15
15
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, যেসব অনুপ্রবেশকারীরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরছেন, কেন্দ্র তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেবে না। এই নিশ্চয়তা মেলার পরেই ঢল নেমেছে সীমন্তে।