আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তার পরেও পরিস্থিতি চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর, ২৪ ঘণ্টা কাটেনি। তার আগেই,  ইরান অভিযোগ তুলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট শর্ত লঙ্ঘন করেছে। দাবি, ১০ শর্তের মধ্যে, তিন শর্ত মানছে না মার্কিন মুলুক। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ১০ দফা শর্ত নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও করেন ট্রাম্প। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনটি শর্ত ভেঙে ফেলা হল। পরিস্থিতি তাহলে কোন দিকে যাবে? এই চিন্তার মাঝেই ফের বড় বার্তা ট্রাম্পের!

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরান এখনও নজরবন্দি। অর্থাৎ মার্কিন সেনাদের এখনই সরিয়ে নিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। সঙ্গেই জানিয়েছেন, দু'তরফ যদি চুক্তি না মানে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ঠিক কী বলেছেন ট্রাম্প? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দু'পক্ষ একটি প্রকৃত চুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে, ব্যার্থ হলে, আরও চরম, ভয়াবহ গোলাগুলির পরিস্থিতি তৈরি হবে। একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি প্রকৃত চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরানের ভিতরে ও তার আশেপাশে মোতায়েন থাকবে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য চিন্তা বাড়াচ্ছে। 

ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, 'সমস্ত মার্কিন জাহাজ, বিমান এবং সামরিক কর্মী, অতিরিক্ত গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র এবং ইতোমধ্যেই যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়া শত্রুকে দমন ও ধ্বংস করার জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় অন্য সবকিছুসহ, ইরানের ভিতরে ও তার আশেপাশেই থাকবে।' তারপরেই, এই চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে, পরিণাম কী হতে পারে, তার উল্লেখ করেছেন। 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ইরান আমেরিকার কাছে কোন কোন শর্ত দিয়েছে?
ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার কাছে পেশ করা ইরানের ১০ দফা শর্তগুলো হল: 

১. ইরানের ওপর ভবিষ্যতে কোনও হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি। 

২.হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নেওয়া।

৪. প্রাথমিক স্তরের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল। 

৫. দ্বিতীয় স্তরের যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

৬. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে পাশ হওয়া সমস্ত প্রস্তাব বাতিল করা।

৭. আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সব প্রস্তাব বাতিল করা।

৮. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

৯. পশ্চিম এশিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া।

১০. লেবানন-সহ সব সীমান্তেই লড়াই বন্ধ করা। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে ১০ মিনিটে লেবাননে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইজরায়েল। গতকালের হামলায় দুই শতাধিক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি, এই হামলায় সব মিলিয়ে ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮০০-রও বেশি মানুষ।