আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রিটেনের এক চিকিৎসকের জঘন্য যৌন অপরাধের ঘটনায় চিকিৎসা পেশায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সোমারসেটের টনটনের চিকিৎসক নিকোলাস চ্যাপম্যান (৫৭)–কে স্থায়ীভাবে চিকিৎসা পেশা থেকে বহিষ্কার করেছে মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল। এক মহিলা রোগীকে ওয়া কফিতে নিজের বীর্য মিশিয়ে দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এল।

২০২৩ সালের জুনে গ্লস্টার ক্রাউন কোর্টে চ্যাপম্যানকে সম্মতি ছাড়া যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা–র দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাঁকে ১২ মাসের কমিউনিটি অর্ডার দেয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে যৌন অপরাধীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এবার অনলাইনে প্রকাশিত ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, “সাধারণ ও যুক্তিসঙ্গত যে কোনও  মানুষ চ্যাপম্যানের অপরাধকে ‘ঘৃণ্য’ বলেই মনে করবেন।” রায়ে আরও বলা হয়, তাঁকে চিকিৎসা রেজিস্টার থেকে বাদ না দিলে জনসাধারণ “স্তম্ভিত” হতেন। ট্রাইব্যুনালের মতে, তাঁর অপরাধ চিকিৎসা পেশার মর্যাদা ও জনবিশ্বাসকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ট্রাইব্যুনালের নথিতে আরও উঠে এসেছে, চ্যাপম্যান দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আরেক মহিলাকে—যাঁকে নথিতে ‘মিস এ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে—টার্গেট করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাঁর সম্মতি ছাড়া নগ্ন মহিলাদের ছবি দেখিয়েছেন, একটি অজ্ঞাত ডেটিং অ্যাপে তাঁকে খুঁজতে বলেছেন। ওই মহিলা আরও অভিযোগ করেন, চ্যাপম্যান একবার তাঁকে চুমু খান এবং আরেকবার আলিঙ্গনের সময় তাঁর নিতম্ব চেপে ধরেন—যা চ্যাপম্যান অস্বীকার করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল এই আচরণগুলোকে “অযাচিত”, “যৌন হয়রানি” এবং ভুক্তভোগীর জন্য “অপমানজনক পরিবেশ” তৈরি করার শামিল বলে রায় দেয়।

২০২৩ সালের বিচার চলাকালীন প্রথম ভুক্তভোগী—ট্রাইব্যুনালে যিনি ‘মিস বি’ নামে পরিচিত—কফিতে বীর্য মেশানোর ঘটনাকে “চতুর ও কাপুরুষোচিত” বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, কিন্তু “এই ঘটনার মানসিক ও আবেগগত আঘাত কোনও  না কোনওভাবে আজীবন থেকে যাবে।”

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন চ্যাপম্যানের সঙ্গে একই প্র্যাকটিসে কাজ করা এক চিকিৎসকও। তিনি জানান, এই ঘটনায় প্র্যাকটিসের সুনাম এবং সামগ্রিকভাবে চিকিৎসকদের ওপর মানুষের আস্থার যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও গভীর। তাঁর কথায়, “ভেতরে-বাইরে নিয়মিত মন্তব্য শোনা যায়—‘ওহ, আমরা ড. চ্যাপম্যানের কথা বলি না।’ অনেক রোগী প্র্যাকটিসে আসতে অনীহা দেখান, কেউ কেউ প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা নিতে দ্বিধায় পড়েন, এমনকি গোপনীয়তা রক্ষা হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ করেন।”

চূড়ান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, চ্যাপম্যান তাঁর কাজের প্রভাব সম্পর্কে “চরম অন্তর্দৃষ্টিহীনতা” দেখিয়েছেন। রায়ে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে কোনও  ক্ষমা, আত্মসমালোচনা, অনুশোচনা বা সংশোধনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও তিনি নিজের সাজা মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন, তবু নির্দোষ দাবি বজায় রেখেছেন।

ট্রাইব্যুনালের ভাষায়, “ড. চ্যাপম্যান রোগী ও জনসাধারণের আস্থা ভেঙেছেন এবং চিকিৎসা পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন।” সেই কারণেই তাঁকে আজীবনের জন্য চিকিৎসা রেজিস্টার থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।