আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করার সময় ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়ল। জানা গিয়েছে, এই দুটি জাহাজের মধ্যে একটি সুপারট্যাঙ্কার ছিল।
আচমকা গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে পরিস্থিতির জেরে জাহাজগুলি মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হতে হয়। শিপিং মনিটর ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া যায়।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবরোধ জারি রয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলির মধ্যে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী সুপারট্যাঙ্কার ছিল যা প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল ইরাকি তেল বহন করছিল। অডিও ইন্টারসেপ্টে জানা গেছে, এই ঘটনার সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস গানবোট থেকে গুলি চালানো হয় এবং জাহাজগুলিকে পশ্চিমমুখে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস কেন্দ্রও নিশ্চিত করেছে যে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় একটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে আইআরজিসি-র দুটি গানবোট গুলি চালায়।
এর আগে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স জানায়, কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝের জলসীমায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, জাহাজগুলি প্রণালী পার হতে না পেরে ফিরে যায় এবং একটি কনটেনার জাহাজও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
কিছু জাহাজ ভিএইচএফ বার্তায় শুনতে পায় যে, প্রণালীটি ‘আবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, ‘সমস্ত জাহাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানানো হচ্ছে, আলোচনায় মার্কিন সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার কারণে ইরান হরমুজ প্রণালীকে আবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কোনও দেশ বা ধরনের জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না।’ কিন্তু সরকারিভাবে এই বিবৃতি সম্পর্কে কোনও সত্যতা মেলেনি। সূত্রের খবর, লারাক দ্বীপের কাছে আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত একটি ডিট্যুর পয়েন্টে দুটি ভারতীয় জাহাজকে ফিরে যেতে হয়।
তবে দিনের শুরুতে একটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে সক্ষম হয়েছিল। এদিন সকাল থেকে মোট আটটি ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর দিকে এগিয়ে যায়।
‘দেশ গরিমা’ নামে একটি জাহাজ ছাড়া বাকি সাতটি জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলেও আচমকা উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার কারণে পরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনার সময় যেসব জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি করা হয় তার মধ্যে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নাবিকের আহত হওয়া বা জাহাজের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর ইরানের রাষ্ট্রদূতের কাছে সরকারিভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত সরকার। নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এ কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তাদের জাহাজ ও বন্দরগুলির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিবাদেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইরানের তরফে ফের জানানো হয়, সেনাবাহিনীর কড়া তত্ত্বাবধানে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরেছে এবং মার্কিন অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
এর আগে আলোচনার ভিত্তিতে সীমিত আকারে তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল ইরান। তবে বর্তমানে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।















