ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল রিসেপ তায়িপ এর্দোগানের দেশ। শুক্রবার তুরস্ক জানিয়েছে যে, গাজায় ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ জন্য ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইজরায়েল যদিও এই অভিযোগগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এ সবই অত্যাচারী এরদোগানের ‘সর্বশেষ পিআর স্টান্ট’।
ইস্তানবুলের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে যে, ‘তুরস্কের দণ্ডবিধির ১৩ ধারা’ অনুযায়ী মোট ৩৭টি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই ধারা তুরস্ককে দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষীদের বিচার করার অনুমতি দেয়। হামাস এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘প্রশংসনীয়’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। তারা তুরস্কের নেতা ও জনগণের আন্তরিকতা এবং তাদের ‘ন্যায়বিচার, মানবতা এবং ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধ’-এর প্রশংসা করেছে।
এই সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করেছে তুরস্ক। সেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ইজরায়েলের বোমা হামলার শিকার তুর্কি-প্যালেস্তিনীয় মৈত্রী হাসপাতালের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, “২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালের উপর হামলায় ৫০০ জন নিহত হন। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলি সৈন্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস করে দেয়। গাজাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং ভুক্তভোগীদের মানবিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।”
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, গাজার ভবিষ্যতের উপর তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য তুরস্ক ৩ নভেম্বর মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠকের আয়োজন করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দু’বছর ব্যাপী ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। এর পরেও ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইজরায়েলি সৈন্যদের উপর প্যালেস্তাইন হামলা করেছে, তাই পাল্টা আক্রমণ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) প্রায় এক বছর আগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ইয়াভ গ্যালান্টের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরোয়ানা অনুযায়ী, যদি ১২৪টি সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের কোনওটিতে নেতানিয়াহু এবং ইয়াভ প্রবেশ করেন তবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এই বছরের এপ্রিলে রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী হাঙ্গেরি সফর করেন। হাঙ্গেরি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে চলতে অস্বীকার করে এবং এই বিষয়ে আইসিসি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। পরোয়ানার পর নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সফর করেছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় কাজ করতে পারে এমন দেশগুলি এড়াতে তিনি এবং তাঁর প্রতিনিধিদল বিশেষ বিমান রুট ব্যবহার করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির পরোয়ানা মানতে বাধ্য নয়। কারণ আমেরিকা রোম সংবিধির কোনও পক্ষ নয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটিকে তারা ‘আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করে।
