আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ দিনে পড়েছে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত। দু’পক্ষই সমানে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে যাচ্ছে। দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। চলমান সংঘর্ষ পুরোপুরি যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার একাধিক দেশ তেহরানের সাধারণ নাগরিকদের শহর ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – তিনটি দেশই তাদের নাগরিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত তেহরান ছাড়ার কথা জানিয়েছে। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্র কর্নেল অভিচাই আড্রেই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তেহরানের কিছু অঞ্চলের মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, ওই এলাকাগুলিতে ইজরায়েল ‘সেনা পরিকাঠামো’ লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাজার সাধারণ মানুষদের উদ্দেশে যে ধরনের সতর্কবার্তা আগে দেওয়া হয়েছিল, সেই একই কৌশল এবার তেহরানেও অনুসরণ করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকে ইরান লক্ষ্য করে পরপর মিসাইল ছুঁড়ছে ইজরায়েল। লক্ষ্য মূলত ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটি। এই পরিস্থিতিতেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইতালিতে জি-সেভেন সম্মেলনে যোগদানকারী ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘সবাই এখনই তেহরান ছেড়ে পালান। ইরানকে কোনও ভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না’। এরপরেই চাঞ্চল্য ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এক মার্কিন প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে আঘাত-প্রত্যাঘাত অব্যাহত রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বার্তা ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চাপ হিসেবেই দেখা উচিত। প্রসঙ্গত, সোমবার ইজরায়েলি বাহিনী ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক এর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হঠাৎ করেই এর সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবরে দাবি করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ওই মুহূর্তের বেশকিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। সোমবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর হওয়ার পর থেকে ইজরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২২৪ জন নিহত হয়েছেন। ইজরায়েলে মৃতের সংখ্যা ২০ জনেরও বেশি। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০০ জন।
















