আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাদুরোকে অপহরণ, আটকের পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, এবার থেকে ভেনেজুয়েলা চালাবে মার্কিন মুলুকই। সোমবার সকালে, যেন আরও একধাপ এগিয়ে পোস্ট। আর তাতেই হতবাক দুনিয়া। তুমুল চর্চা তাঁর পোস্ট নিয়েও। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ-এ সোমবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি পোস্ট করেছেন। যেটি দেখতে উইকিপিডিয়া স্ক্রিনশটের মতোই। তাতে ট্রাম্পের ছবি রয়েছে। নীচে উল্লিখিত, অফিসিয়াল পোট্রেট ২০২৫।
তারপরেই যা লেখা আছে, তা নিয়েই চর্চা। লেখা আছে, 'অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট অফ ভেনেজুয়েলা' অর্থাৎ ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই তা কার্যকর, তেমনটাই উল্লেখ। তার নীচে আবার পরপর উল্লেখ রয়েছে, তিনি আমেরিকার ৪৫তম এবং ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। যদিও নীচের তথ্যের মধ্যে কোনও ভ্রান্তি নেই গোটা বিশ্বের কাছেই, কিন্তু উপরের তথ্য নিয়েই হইচই। ওই তথ্যের অর্থ, ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন আদিপত্যের যে বার্তা তিনি দিচ্ছিলেন কয়েকদিন ধরেই, তাতেই যেন সিলমোহর দিতে চাইলেন।
https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/115879509461234235
ট্রাম্পের ট্রুথ পোস্টের সঙ্গে যদিও তাঁর উইকিপিডিয়ার তথ্যের মিল নেও কোনও। কারণ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত, তাঁর উইকিপিডিয়ায় ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বিষয়টির কোনও উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই, ভেনেজুয়েলার ওপর তেলকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে হোয়াইট হাউসের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত ভেনেজুয়েলাকে নতুন করে তেল উত্তোলন বা রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে না।
মার্কিন শর্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসব দেশকে কার্যত ভেনেজুয়েলা থেকে ‘বের করে দেওয়ার’ দাবি জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই অংশীদার হতে হবে এবং ভারী অপরিশোধিত তেল বিক্রির ক্ষেত্রে আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সূত্রের দাবি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহেই কংগ্রেস সদস্যদের একটি গোপন ব্রিফিংয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তারা ভেনেজুয়েলাকে বাধ্য করতে পারবে, কারণ দেশটির অধিকাংশ তেল ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই পূর্ণ। রুবিও আরও বলেন, তেল বিক্রি বন্ধ থাকলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেনেজুয়েলা কার্যত আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়তে পারে।
