আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'বন্ধই থাকবে হরমুজ প্রণালী'। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। আর প্রথম ভাষণেই আমেরিকার বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখা হবে। শুধু তাই নয়, মধ্য এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা জারি রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেলে জনৈক সংবাদ সঞ্চালক খামেনেইর এই বিবৃতি পাঠ করেন। এদিন অবশ্য তাঁকে ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "এই অঞ্চল থেকে অবিলম্বে আমেরিকার সব ঘাঁটি সরাতে হবে।" তা না হলে সেই ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার শপথ নিয়েছেন নতুন এই ইরানি নেতা। তাঁর দাবি, ইরান তার শত্রুদের কাছ থেকে কড়ায়-গণ্ডায় 'ক্ষতিপূরণ' আদায় করবে। তাঁর কথায়, "শত্রুরা যদি নিজের থেকে ক্ষতিপূরণ না দেয়, তবে ইরান তাদের সম্পদ ছিনিয়ে নেবে অথবা তা ধ্বংস করে দেবে।"
অন্য দিকে, যুদ্ধের আবহ কাটাতে একই দিনে তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত মেটাতে হলে আগে ইরানের ‘ন্যায্য অধিকার’ স্বীকার করে নিতে হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনও আক্রমণ হবে না- এই মর্মে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
নিজের এক্স হ্যান্ডলে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে টাকাও দিতে হবে। রাশিয়া ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ইরান শান্তি চায়। কিন্তু তার জন্য ইরানকে তার পাওনা অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে হবে।
