আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক অদ্ভুত বিয়ের ঘটনা ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ৩৭ বছর বয়সী এক থাই মহিলা একই মঞ্চে দুই অস্ট্রিয়ান প্রৌঢ়ের সঙ্গে বিয়ে করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের প্রাখন চায় জেলায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মহিলার নাম দুয়াংদুয়ান কেৎসার। তিনি একসময় গায়িকা ও গীতিকার হিসেবে কাজ করতেন।
প্রায় পাঁচ বছর আগে থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়তে প্রথম পরিচয় হয় দুয়াংদুয়ানের সঙ্গে রোমান নামে এক অবসরপ্রাপ্ত অস্ট্রিয়ান পুলিশ কর্মকর্তার। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রোমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ম্যাকির সঙ্গেও তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তিনজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক গভীর হয়। রোমানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর এবং ম্যাকির সঙ্গে এক বছর সম্পর্কে থাকার পর তারা তিনজন মিলে এই সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দুয়াংদুয়ানের আগের বিয়ে থেকে তিন সন্তান এবং দুই নাতি-নাতনি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার চালাতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং নিজের বাবা-মা ও সন্তানদের দেখাশোনা করেছেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করেন। আশ্চর্যজনকভাবে তার সন্তান ও বাবা-মা এই বিয়েতে সম্মতি দেন, কারণ দুই অস্ট্রিয়ান পুরুষই দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে সাহায্য করে আসছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনজনের বিয়ের অনুষ্ঠান হয় প্রাখন চায়তেই। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শান্তভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়েতে থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী bai sri su kwan আশীর্বাদ অনুষ্ঠান এবং হাত বাঁধার রীতিও পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের এক মজার মুহূর্তে দুই বর একসঙ্গে আনন্দে একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন।
বিয়ের সময় দুই অস্ট্রিয়ান বরই কনের পরিবারকে প্রায় ১০ লক্ষ বাথ (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা) দেন। দুয়াংদুয়ানের মা জানিয়েছেন, মেয়েকে দীর্ঘদিন কষ্ট করতে দেখেছেন তিনি। এখন তার একটাই ইচ্ছা—মেয়েটা যেন সুখে থাকে। তবে সামাজিকভাবে বিয়েটি উদ্যাপন হলেও থাইল্যান্ডের আইনে বহুবিবাহ স্বীকৃত নয়। ফলে এই তিনজনের মধ্যে কেবল একটি বিয়েই আইনত নথিভুক্ত করা সম্ভব।
এই অদ্ভুত বিয়ের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রেম ও পারস্পরিক সম্মতির ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এর আইনি ও সামাজিক দিক নিয়ে। মজার ছলে কনে নিজেই বলেছেন, “একজনকে বিয়ে করলে কেউ মনে রাখে না, কিন্তু একসঙ্গে দুজনকে বিয়ে করলে সবাই মনে রাখে!”
