আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর খবরের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, তাঁর দেশেই হামলার শিকার খামেইনি বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনের সমর্থকরা। ঘটনা লস অ্যাঞ্জেলেসের। সম্প্রতি একটি হাড়হিম ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বহু মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হয়েছেন। বিক্ষোভ, স্লোগান চলার সময়ে প্রতিবাদীদের প্রায় পিষে দিয়ে একটি ট্রাক চলে যাচ্ছে! 

কোনও মতে সরে যেতে পারায় আন্দোলনকারীরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। এরপর দ্রুতগামী গাড়ির পিছনে দৌড়ে ধাওয়ার চেষ্টা করেন বেশ কয়েকজন। তবে ততক্ষণে ট্রাকটি অনেক দূরে চলে গিয়েছে। এই ঘটনায় কেউ আঘাত পেয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি

পরে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, বিক্ষোভকারীরা ট্রাকর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, চালকের দিকে ঘুষি মারছে এবং ড্রাইভারের পাশের জানালা দিয়ে পতাকা ছুঁড়ে মারছে। ইউ-হল ট্রাকটি, একটি কাঁচ ভেঙে গিয়েছে। শেষমেষ পুলিশ ট্রাকটিকে তামিয়েছে। পুলিশের ভ্য়ান দিয়ে সেটি ঘেরা রয়েছে। তবে, চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্যারামেডিকরা দু'জনকে খতিয়ে দেখেছেন, তবে উভয়ই চিকিৎসা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরানের মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ইরানি জনগণের সমর্থনে লস অ্যাঞ্জেলেসে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিল। যা ২০২২ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। ইরানজুড়ে প্রবল আর্থিক অনটন। মুদ্রার অবমূল্যায়ণের জেরে মুদ্রাস্ফিতী চরমে। ফলে আয়াতুল্লা খামেইনি বিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্রমশ যা রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে।

দেশব্যাপী বিক্ষোভের উপর দমন-পীড়নের ফলে ৫৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, এমনকী আরও বেশি লোক মারা গিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে ১০,৬০০ জনেরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে। দেশে ইন্টারনেট এবং ফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। 

ইরান থেকে পাঠানো ভিডিও - সম্ভবত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে, তেহরানের পুনাক পাড়ায় বিক্ষোভকারীদের জড়ো হতে দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের তাঁদের মোবাইলের টর্চলাইট জ্বালিয়ে মোবাইল ফোন নাড়তে দেখা গিয়েছে। পোড়ানো হচ্ছে আতশবাজি, কেউ কেউলোহা পেটাচ্ছেন প্রতিবাদের সমর্থনে।

ইরান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলকে অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার জন্য দায়ী করেরেছে।

ট্রাম্প কী বলেছেন?
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তেহরানে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য "খুব শক্তিশালী বিকল্প" বিবেচনা করছে। ইরান কি লাল রেখা অতিক্রম করছে? জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, "তারা শুরু করেছে, মনে হচ্ছে কিছু লোককে হত্যা করা হচ্ছে যাদের হত্যা করা উচিত নয়। আপনি যদি তাদের নেতা বলেন তবে এরা হিংসাত্মক। আমি জানি না তারা নেতা নাকি তারা কেবল হিংসার মাধ্যমে শাসন করে।"
ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বলেছেন, "আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সেনাবাহিনী বিষয়টি দেখছে, এবং আমরা কিছু খুব শক্তিশালী বিকল্পের দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা এবার একটা সিদ্ধান্ত নেব।"  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন যে, তিনি ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বিলিয়নেয়ার এলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার চিন্তাভাবনা করেছেন। তাঁর কথায়, "তিনি এই ধরণের বিষয়ে খুব ভাল, তাঁর একটা খুব ভাল কোম্পানি আছে।" ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, তিনি মাস্কের ইরানে 'স্টারলিংক' ব্যবহার করা হচ্ছে।