আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজ, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রাশিয়া, আমেরিকা এবং ইউক্রেনের মধ্যে হবে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি এই বৈঠক চলবে। বিগত চার বছঠর ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। রুশ আগ্রাসন থামার কোনও লক্ষণ নেই। এই আবহে যুদ্ধ বন্ধ করতে দু'দিন ব্যাপী এই ক্রিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার পর একটি প্যানেল আলোচনায় এই বৈঠকের কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এই বৈঠকই হচে চলেছে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। জেলেস্কির আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "শুক্র ও শনিবার একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে, কোনও আলোচনা না হওয়ার চেয়ে এটা ভাল।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পরেই জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে, তাঁদের মধ্যে একটি "ভাল" আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় দলটির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হয়েছে, এরপর মার্কিন দলটি রাশিয়ায় যাবে।

পাশাপাশি পুতিনকে কটাক্ষ করে জেলেনস্কি বলেন, "আমাদের লোকেরা আজ আমেরিকানদের সঙ্গে বৈঠক করছে, তারপর আমেরিকানরা শুক্রবার রাশিয়ানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর কী হবে তা আমি জানি না, হয়তো পুতিন ঘুমাচ্ছেন, আপনারাই তো বললেন যে- তাঁর মাথায় কী আছে তা কেউ জানে না।" এরপরই তাঁর দাবি, " রাশিয়ার আপসের জন প্রস্তুত থাকা উচিত। আপনি জানেন, শুধু ইউক্রেন নয়, সবারই প্রস্তুত থাকা উচিত এবং এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা দেখব ফলাফল কী হয়।"

তবে , ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আলোচনার ধরন বা কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনা করবেন কিনা সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

জেলেনস্কির দাবি, ইউরোপ তার নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। নিজেদের রক্ষার জন্য মহাদেশটির নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন বলে মনে করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, "ইউরোপের একটি সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন, এমন বাহিনী যা আজ সত্যিই ইউরোপকে রক্ষা করতে পারে। যদি বিপদ আসে, ন্যাটো পদক্ষেপ করবে। ইউরোপ কেবল এই বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে থাকে। কিন্তু কেউ সত্যিই এই জোটকে বাস্তবে কাজ করতে দেখেনি। কিন্তু যদি ন্যাটো সহায়তা না করে? বিশ্বাস করুন, এই প্রশ্নটি প্রতিটি ইউরোপীয় নেতার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে"

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে, ইউক্রেন গ্রিনল্যান্ডের কাছে রাশিয়ার জাহাজ ডোবাতে ন্যাটোকে সাহায্য করতে পারে। জেলেনস্কি বলেন, "আমরা জানি কী করতে হবে। যদি রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজগুলো গ্রিনল্যান্ডের কাছে অবাধে চলাচল করে, তাহলে ইউক্রেন সাহায্য করতে পারে। আমাদের কাছে এমন দক্ষতা ও অস্ত্র আছে যা দিয়ে নিশ্চিত করা যাবে যে, ওই জাহাজগুলোর একটিও অক্ষত থাকবে না। ক্রিমিয়ার কাছে যেমন জাহাজ ডোবে, তেমনি গ্রিনল্যান্ডের কাছেও সেগুলো ডুবে যেতে পারে।"

জেলেনস্কি আরও বলেন, "যদি আমাদের অনুরোধ করা হতো এবং যদি ইউক্রেন ন্যাটোতে থাকত, তাহলে আমরা সেখানে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয় তা জানতাম। কিন্তু আমরা ন্যাটোতে নেই। আমরা রাশিয়ার জাহাজগুলোর সমস্যা সমাধান করে দিতাম।"