আজকাল ওয়েবডেস্ক: লেবাননের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনার ঘোষণা করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধমকেই এই সিদ্ধান্ত ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এবং এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র উদ্ধৃত করে সিএনএন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সূত্রের খবর, স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়। সেই ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার তীব্রতা কমিয়ে আনতে এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে বেরুটের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে বলেন। ট্রাম্পের এই বার্তার পরই নেতানিয়াহু তাঁর মন্ত্রিসভাকে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে ট্রাম্পের কথায় নেতানিয়াহু লেবাননে হামলার মাত্রা কমাতে সম্মত হয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনও যুদ্ধবিরতি নেই। তিনি আরও বলেন, লেবাননের সঙ্গে আলোচনা চললেও সামরিক অভিযান বা ‘হামলা’ বন্ধ হবে না। অর্থাৎ ইজরায়েল ‘আগুনের মধ্যেই আলোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। 

যদিও বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দাবি করেছিলেন, ইজরায়েলিরা লেবাননে হামলা কমিয়ে আনায় কথা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আজ বৃহস্পতিবারও ইজরায়েলি বাহিনী লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং দক্ষিণ বৈরুটের বেশ কিছু এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার নতুন নির্দেশ জারি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একজন ইজরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননের সঙ্গে আসন্ন এই আলোচনায় ইজরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার।

মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে লেবানন সীমান্তকেও শান্ত করার জন্য ট্রাম্পের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে হিজবুল্লার নিরস্ত্রীকরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দুই পক্ষ শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।