আজকাল ওয়েবডেস্ক: শান্তি বৈঠক ভেস্তে যেতেই মার্কিন হামলার ভয়। মাঝ পথেই বিমান থেকে নেমে পড়ে ইরানের প্রতিনিধিদল। এরপর ট্রেনে, বাসে করে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই বিরাট তথ্য ফাঁস করলেন ইরানের এক রাজনীতিবিদ।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি জানিয়েছেন, তিনিও ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। তিনিই জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে যাওয়ার পথে বিমানে হামলা করার আশঙ্কা ছিল। লেবাননের এক সংবাদমাধ্যম সেই খবর জানায়। তাই ফেরার পথেই আর বিমানে ফেরেননি তিনি।
মারান্ডি আরও জানিয়েছেন, "আগেই খবর পেয়েছিলাম, আমাদের বিমানে হামলা হতে পারে। তাই ইসলামাবাদ থেকে ফিরে আসার পথে আমরা বিমানে করে ফিরিনি। আমাদের আশঙ্কা ছিল, প্রতিনিধিদলের বিমানটি লক্ষ্য করে গুলি করা হতে পারে। কিংবা বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে করা হতে পারে। তাই গোপনে একটা অন্য বিমানে উঠেছিলেন প্রথমে। এরপর তেহরানগামী ওই বিমানটি হঠাৎই গতিপথ পরিবর্তন করে। এরপর আমরা ওই বিমানটি মাশহাদে অবতরণ করে। বিমান থেকে নেমেই আমরা সবাই ট্রেন, গাড়ি এবং বাসে করে তেহরানে পৌঁছই। আসলে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করি না। পরের যুদ্ধের জন্যেও আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি।"
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর এই প্রথমবার। দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক। কিন্তু মুখোমুখি প্রতিনিধিদল বসেনি। ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েও গিয়েছিল। কিন্তু শেষমুহূর্তে ভেস্তে যায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে টানা ২১ ঘণ্টা বৈঠক চলে। বৈঠকের জন্য পাশাপাশি তিনটি রুম ছিল। একটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। আরেকটিতে ইরানের প্রতিনিধিদল। মাঝের ঘরটিতে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের দল।
ইরানের প্রতিনিধিদলের তরফে এক কর্তা জানিয়েছেন, টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠকে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। শেষমুহূর্তেই কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মতভেদের কারণে চুক্তি ভেস্তে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে ইরানের সঙ্গে দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর চারদিন পর ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক হয়।
পাকিস্তানে শান্তি বৈঠকে ইরানের ৭০ জনের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রতিনিধি দলে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার।
গত শনিবার টানা ২১ ঘণ্টা বৈঠকের পর কোনও চুক্তি হয়নি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। আগামিকাল, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক হতে পারে। ইসলামাবাদেই ফের বৈঠকে বসবেন মার্কিন ও ইরানের প্রতিনিধিরা।
















