আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেভাদার লাস ভেগাসে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ঠিক পথেই’ এগোচ্ছে এবং তা ‘খুব দ্রুত শেষ হতে পারে’।
ট্রাম্পের আশা, চলতি সপ্তাহান্তেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আগামী ২০ বছর পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রস্তাব দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে আয়োজিত বৈঠকেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জট তৈরি হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সবই সময়ের অপেক্ষা। তবে আমার মনে হয়, আমরা একটা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।” সূত্রের খবর, ইসলামাবাদে আমেরিকা ২০ বছরের বিরতি চাইলেও ইরান ৫ বছরের পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধ চলছে। প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বাড়ায় প্রবল চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। এই আবহে গত বৃহস্পতিবার থেকে দুই শত্রু দেশের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। লেবাননে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পর এই সিদ্ধান্ত। ইরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি 'লঙ্ঘন' বলে তোপ দাগলেও, আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত।
যদি লেবাননের এই শান্তিপ্রক্রিয়া আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বড় কোনও চুক্তির রাস্তা খুলে দেয়, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সাফল্য হবে। কারণ, হরমুজ প্রণালী সচল রাখা এবং ইরানের পরমাণু অস্ত্র রুখতে মরিয়া ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার মাঝরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতেই বৈরুতের রাস্তায় সাধারণ মানুষকে উৎসবে মাততে দেখা গিয়েছে। চলে আনন্দধ্বনি ও বাজি পোড়ানো।
তবে এই শান্তি কতটা স্থায়ী, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। লেবানন সেনার দাবি, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলিতে গোলাবর্ষণ করে তা লঙ্ঘন করেছে ইজরায়েল। যদিও ইজরায়েলি সেনার দাবি, হিজবুল্লা জঙ্গিদের গতিবিধি রুখতেই তারা সক্রিয় রয়েছে।















