আজকাল ওয়েবডেস্ক: সময় মে মাসের ১৩ তারিখ। চিনের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে দুই শক্তিশালী নেতার রাজকীয় বৈঠক। এদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেতরের ছবিটা একেবারেই আলাদা।
ইরান যুদ্ধ, চিনের সঙ্গে শুল্ক লড়াই আর আন্তর্জাতিক নানা চাপে ট্রাম্প এখন কার্যত কোণঠাসা। এক সময় যে দাপট নিয়ে তিনি বেইজিং আসতেন, তা এখন অনেকটাই সীমিত।
খবর অনুযায়ী, এবারের বৈঠকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চেয়ে ট্রাম্পের বড় কোনও সমাধানের প্রয়োজন বেশি। অর্থাৎ, দাবার বোর্ডে এগিয়ে এখন জিনপিংই।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধাক্কা দিয়েছে। টান পড়েছে আমেরিকার ভাণ্ডারেও। দেখা গিয়েছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টে পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সেই চিনেরই দ্বারস্থ হতে হচ্ছে আমেরিকাকে। তেলের বাজার এবং সমুদ্রপথ শান্ত রাখতে বেজিং যাতে ইরানের ওপর প্রভাব খাটায়-সেই আর্জিই এখন মার্কিন কর্তাদের গলায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি আসলে আমেরিকার দূর্বলতারই প্রকাশ৷
সামনেই আমেরিকার নির্বাচন। ঘরের মাঠে মুখ রক্ষা করতে ট্রাম্পের ঝুলিতে বিদেশের কোনও বড় সাফল্য থাকা জরুরি। এদিকে চিনের ধারণা, ট্রাম্প এখন যুদ্ধ সামলাতে গিয়ে একপ্রকার দিশেহারা। কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্প সমাধানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এক সময় চিনের ওপর চড়া শুল্ক বসিয়ে বাগে আনতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু খবর অনুযায়ী, সেই অস্ত্র বর্তমানে ভোঁতা হয়ে গিয়েছে। চিন এখন আর আমেরিকার হুমকিতে ভয় পায় না। উল্টে চিনের কাছে এখন বাণিজ্য ছাড়াও ইরান ও বিশ্ব নৌ-চলাচলের মতো একাধিক তুরুপের তাস রয়েছে। বেজিং খুব পরিষ্কার করেই বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইরান ইস্যুতে তারা আমেরিকাকে সাহায্য করলে বিনিময়ে প্রযুক্তি বা তাইওয়ান নিয়ে ওয়াশিংটনকেও বড় ছাড় দিতে হবে।
২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম চিন সফরে গিয়েছিলেন, সেই দাপট আর আজকের পরিস্থিতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। বেইজিং এখন ট্রাম্পকে সামলাতে অভ্যস্ত। শেষ পর্যন্ত যদি এই বৈঠক থেকে বড় কোনও সাফল্য না আসে, তবে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করা কঠিন হবে ট্রাম্পের জন্য। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে বৈঠকের দিকে।















