দেশের শেয়ার বাজারে টানা চতুর্থ দিনের পতনে বড় ধাক্কা খেলেন বিনিয়োগকারীরা। গত চারটি ট্রেডিং সেশনে সেনসেক্স ভেঙে পড়েছে ৩,২০০ পয়েন্টেরও বেশি, যা প্রায় ৪ শতাংশ পতনের সমান।
2
8
একই সময়ে নিফটি ৫০ সূচকও কমেছে প্রায় ৩.৭ শতাংশ। বাজারের এই বড় ধসের ফলে বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি কমে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
3
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কারণ একসঙ্গে কাজ করায় বাজারে এই বড় পতন দেখা দিয়েছে। প্রথমত, আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাজারে চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে টাকা তুলতে শুরু করেছেন। তার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও।
4
8
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির উপর। ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
5
8
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় আকারে শেয়ার বিক্রিও বাজার পতনের অন্যতম কারণ। গত কয়েক দিনে তাঁরা হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর ফলে বাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।
6
8
দেশীয় স্তরেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন বড় কোম্পানির ত্রৈমাসিক ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। বিশেষ করে আইটি, ব্যাঙ্কিং ও অটো সেক্টরের শেয়ার বেশি চাপের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
7
8
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে এই ধরনের ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও ছোট বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
8
8
তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, মার্কিন সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থানের উপর ভারতীয় শেয়ার বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।