আজকাল ওয়েবডেস্ক: হান্টাভাইরাস ঘিরে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। এবার এমভি হান্ডিয়াস প্রমোদতরী থেকে দুই ভারতীয়কে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি নেদারল্যান্ডসের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, স্পেনের ভারতীয় দূতাবাস রবিবার জানিয়েছে, ওই দুই ভারতীয় বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হান্টাভাইরাসের উপসর্গ নেই। 

 

হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর পর স্পেনের ক্যানারি দ্বীপের তেনেরিফ বন্দরে নোঙর ফেলেছে এমভি হান্ডিয়াস প্রমোদতরী। জানা গেছে, ওই প্রমোদতরীতে ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দু'জন ভারতীয় ক্রু মেম্বার ছিলেন। 

 

স্পেনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, স্প্যানিশ ন্যাশানাল সেন্টার ফর এমার্জেন্সি মনিটরিং অ্যান্ড কর্ডিনেশনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই প্রমোদতরী থেকে দু'জন ভারতীয় ক্রু মেম্বারকে নেদারল্যান্ডসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন‌। 

 

স্পেনের ভারতীয় দূতাবাস জয়ন্ত এন খোবড়াগাড়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন স্পেনের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে। দুই ভারতীয়র সুরক্ষা এবং শারীরিক অবস্থার গতিবিধি নিয়েও নজর রাখছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস আধানম গ্রেবিয়াসিস বলেছেন, 'এটা আরেকটা কোভিড নয়।' 

 

অর্থাৎ করোনাভাইরাসের মতো ছড়ায় না এই হান্টাভাইরাস। এখনও পর্যন্ত হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই প্রমোদতরীর তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ছয় থেকে আট জন। 

 

গত সপ্তাহে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াসের হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। আরও চারজন অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

 

এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতাও জারি করেছে। মূলত ইঁদুর জাতীয় প্রাণীদের মাধ্যমে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায়। এটিও করোনার মতোই আরএনএ ভাইরাস। 

 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এরপর শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণে মানব শরীরের ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি হয়। 

 

হান্টাভাইরাসে সংক্রমণের উপসর্গ কী? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর, পেশির ব্যথা, খিঁচুনি, ফুসফুসে জল জমা, ফুসফুস বিকল হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। 

 

ভারতেও এই হান্টাভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত দেখা গিয়েছিল। ২০০৫ সালে চেন্নাইয়ে কয়েকজনের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালে মুম্বইয়েও হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ও টিকা নেই। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।