আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ১৪ দিন ধরে তাঁরা যে বৈজ্ঞানিক কাজ করবেন তা নিয়ে তিনি অত্যন্ত উৎসাহী। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে সফলভাবে ডকিং করার পর এমনটাই জানালেন ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের (IAF) গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। মহাকাশে অবস্থানের অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘মাথা একটু হালকা লাগছে, তবে সেটা কোনও সমস্যার বিষয় নয়। তার চেয়ে অনেক বড় ব্যাপার হল, আমরা এখানে যা কাজ করব, তা ভারতের মহাকাশ অভিযানের পথে এক বড় পদক্ষেপ’। ড্রাগন স্পেসক্র্যাফ্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছনো এই চার মহাকাশচারীর মধ্যে শুভাংশু শুক্লা ছাড়াও রয়েছেন পোল্যান্ডের স্লাভোস উজনানস্কি-উইসনিয়েভস্কি, হাঙ্গেরির তিবর কাপু এবং মার্কিন মহাকাশচারী পেগি হুইটসন। মহাকাশে পৌঁছনোর পর প্রথমবার পুরো দল একসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সদ্য পৌঁছানো চার মহাকাশচারী আনন্দের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে কথোপকথনে মেতে উঠেছেন এবং পানীয় উপভোগ করছেন। ভারতের পতাকা প্রসঙ্গে শুভাংশু বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে আমার কাঁধে তিরঙ্গা বহন করছি’। তাঁর এই উক্তি মুহূর্তের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরাও প্রশংসা করেছেন শুভাংশুর এবং আগামী দিনগুলির জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁকে।  ১৪ দিনের এই অভিযান আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বকে আরও মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার বেলা ১২টা ১ মিনিট নাগাদ শুভাংশুদের নিয়ে উড়ান দেয় স্পেস এক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’।

নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯এ লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকে ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের সাহায্যে ড্রাগনকে মহাকাশে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে মহাকাশ স্টেশনে পদার্পন করে ড্রাগন মহাকাশযান।  নাসার ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় শুভাংশু। তিনিই মহাকাশযানটি পরিচালনা করেছেন। বায়ুসেনার ক্যাপ্টেন হওয়ায় এর আগে এএন-৩২, জাগুয়ার, হক, মিগ-২১, সু-৩০-সহ নানা ধরনের যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে শুভাংশুর। কিন্তু মহাকাশযান এই প্রথম! এজন্য দীর্ঘ দিন ধরে স্পেসএক্স এবং ‘অ্যাক্সিয়ম স্পেস ইনকর্পোরেশন’-এর কাছে প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছে তাঁকে। শুভাংশু দ্বিতীয় ভারতীয় যিনি মহাকাশে গেলেন। শুভাংশু প্রথম ভারতীয়, যিনি মহাকাশ স্টেশনে পদার্পন করলেন। ইতিহাস লিখলেন লখনউয়ের ছেলে।