আজকাল ওয়েবডেস্ক: জুন থেকে জুলাই। পরপর মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা। ১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে ২৭৪ জনের। তার পরেই ২১ জুলাই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটে বাংলাদেশের ঢাকায়। ঠিক তার তিন দিনের মাথায়, ২৪ জুলাই, রাশিয়ান বিমান ভেঙে পড়ার কথা জানা গিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। জানা গিয়েছে, ওই বিমানের ক্রু, যাত্রী সকলের মৃত্যু ঘটেছে।
সাইবেরিয়ার আঙ্গারা এয়ারলাইন্সের বিমান। বিমানের গন্তব্য ছিল, রাশিয়ার আমুর প্রদেশের টিন্ডা। তবে মাঝপথ থেকে আর খোঁজ মিলছিল না যাত্রী-কর্মী-সহ বিমানটির। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, নিখোঁজ বিমানের তল্লাশিতে নেমে, খোঁজ মিলেছে। তল্লাশিতে নিযুক্ত একটি হেলিকপ্টার ওই বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই বিমানে থাকা কর্মী-সহ ৪৯ জন যাত্রীর কেউ আর বেঁচে নেই।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয়দের ওপর হামলার ইতিহাসে নতুন সংযোজন, ফের ঘৃণাজনিত অপরাধে উত্তাল প্রবাসী মহল...
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্যও উল্লেখ করে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পূর্ব আমুর অঞ্চলে ওই বিমানটি ভেঙে পড়ে। বিমানটি চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের শহর টিন্ডায় পৌঁছানোর সময় রাডার স্ক্রিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকেই খঁজ মিলছিল না। বিমান দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, পাঁচ শিশু এবং ছয়জন ক্রু সদস্য-সহ ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন। রাশিয়ার জরুরি অবস্থা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে যাত্রীবাহী বিমানের ধ্বংসাবশেষ একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার দ্বারা শনাক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: উড়ানের পরেই ভবনে ভেঙে পড়ল বিমান, মৃত্যু মিছিল পড়ুয়াদের, যেভাবে জুড়ে গেল আহমেদাবাদ-ঢাকা দুর্ঘটনা
এর আগে, ১২ জুন, দুপুর ১টা ১৭ মিনিট নাগাদ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। ১টা ৩৮ মিনিট নাগাদ বিমানটি স্থানীয় একটি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাসে ঢুকে যায়। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছাত্রাবাসের একাংশ। চাপা পড়ে প্রাণ যায় বহু পড়ুয়া এবং সেখানে কর্মরত কয়েকজনের। প্রকাশ্যে আসা বেশকিছু ছবিতে দেখা গিয়েছিল, ছাত্রাবাসে পড়ুয়ারা তখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তার মাঝেই মৃত্যু। উল্লেখ্য, আহমেদাবাদ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনায় কেবল এক যাত্রী ছাড়া ওই বিমানে থাকা সকল যাত্রী, ক্রু-র মৃত্যু হয়। এআই ১৭১ ফ্লাইটে থাকা যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা-সহ মোট ২৭৪ জনের মৃত্যু হয় দুর্ঘটনায়।

১২ জুনের পর ২১ জুলাই, ঢাকা বিমান দুর্ঘটনা। সোমবার ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ বিমানটি একটি স্কুলের উপর ভেঙে পড়ে। সোমবার দুপুরে ১টা ৬ মিনিটে উড়ানের পরেই ঢাকার উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ক্যাম্পাসে বিমানটি ভেঙে পড়ে। সেই সময় স্কুলে ছিল পড়ুয়ারা। ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে বহু ছাত্রের, প্রাণ গিয়েছে ওই বিমানের পাইলটের। ঠিক তার তিনদিনের মাথায় ফের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তথ্যও প্রকাশ্যে। যদিও কীভাবে এই দুর্ঘটনা, তার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি এখনও।
