আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহায়তা করতে প্রস্তুত ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। একই সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশগুলি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশগুলি। বিবৃতিতে এই দেশগুলির তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মোকাবিলা করতে যৌথ উদ্যোগে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে তারা অংশ নিতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী সাম্প্রতিক ঘটনায় গভীর সংকটে পড়েছে।
অভিযোগ, এখান দিয়ে জাহাজ চলাচল করার সময় ইরান একাধিকবার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ড্রোন ও বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, এমনকী প্রণালী পারাপারের চেষ্টা করা জাহাজগুলিকে আক্রমণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির জেরে জাহাজ চলাচল কার্যত ভেঙে পড়েছে। বহু জাহাজ হরমুজ প্রণালীর বাইরে আটকে রয়েছে। এর ফলে ভারত-সহ একাধিক দেশে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলির সঙ্গে কাজ করে উৎপাদন বাড়ানো হবে, যাতে বাজারের উপর চাপ কমানো যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর কর বসানোর তোড়জোড় শুরু করল ইরান। বৃহস্পতিবার সে দেশের এক সাংসদ জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করছে, তাদের থেকে এবার কর আদায়ের কথা ভাবছে তেহরান।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে ইরানের এই চালে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই এই এলাকায় দাপট বাড়িয়েছে ইরান। তাদের দাবি, শত্রু দেশ বা তাদের ঘনিষ্ঠদের কোনও জাহাজ এই পথ দিয়ে যেতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এবার সেই নজরদারিকেই আয়ের পথ বানাতে চাইছে তারা। ইরানের সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, দেশের সংসদে এই মর্মে একটি বিল আনা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে- খাবার, তেল বা অন্য কোনও পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করলেই ইরানকে কর ও শুল্ক দিতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, যুদ্ধ মিটলে এই জলপথে ‘নতুন শাসন’ কায়েম হবে। যারা ইরানের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে হাত-পা বেঁধে দিতে চেয়েছিল, এবার তাদের জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা রাশ টানবে তেহরান।
