আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ যত এগোচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তেলের লড়াই। বুধবার সৌদি আরবের ইয়ানবু উপকূলে ‘স্যামরেফ’ তেল শোধনাগারে আছড়ে পড়ল ড্রোন। সৌদি আরামকো এবং এক্সন মবিল-এর যৌথ উদ্যোগে চলা এই কারখানায় হামলার জেরে আগুন লেগে যায়। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয়।
এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে ইরান। সম্প্রতি তেহরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিল- সৌদি আরব, কাতার এবং আমিরশাহির তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলো খালি করে দেওয়া হোক। ইরান জানিয়েছে, তাদের ‘সাউথ পারস’ গ্যাস ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার বদলা নিতেই এই পদক্ষেপ।
গোটা বিশ্বের নজর এখন পারস্য উপসাগরের দিকে। কারণ বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালী গত মাস থেকেই আটকে দিয়েছে ইরান। হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর ইয়ানবু তেল রপ্তানির প্রধান ভরসা ছিল। এবার সেখানেও হামলা চালাল তেহরান।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বিতীয় প্রধান কেন্দ্র ফুজাইরাহ-তেও দফায় দফায় হামলার জেরে কাজ বন্ধ রয়েছে।
যুদ্ধ কেবল তেলের ড্রামেই সীমাবদ্ধ নেই। ‘কাতার এনার্জি’ জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের প্রধান গ্যাস কেন্দ্র ‘রাস লাফান’ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াধের আকাশে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে সৌদি সেনা। আমিরশাহির হাবশান গ্যাস প্রকল্পেও হামলার আশঙ্কায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ যে অঞ্চল থেকে আসে, সেখানে এখন বারুদের গন্ধ। বিশারদদের মতে, এই অস্থিরতা বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে সময় লাগবে না।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর কর বসানোর তোড়জোড় শুরু করল ইরান। বৃহস্পতিবার সে দেশের এক সাংসদ জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করছে, তাদের থেকে এবার কর আদায়ের কথা ভাবছে তেহরান।
এদিকে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে ইরানের এই চালে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই এই এলাকায় দাপট বাড়িয়েছে ইরান। তাদের দাবি, শত্রু দেশ বা তাদের ঘনিষ্ঠদের কোনও জাহাজ এই পথ দিয়ে যেতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই নজরদারিকেই আয়ের পথ বানাতে চাইছে তারা। ইরানের সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, দেশের সংসদে এই মর্মে একটি বিল আনা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে- খাবার, তেল বা অন্য কোনও পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করলেই ইরানকে কর ও শুল্ক দিতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, যুদ্ধ মিটলে এই জলপথে ‘নতুন শাসন’ কায়েম হবে। যারা ইরানের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে হাত-পা বেঁধে দিতে চেয়েছিল, এবার তাদের জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা রাশ টানবে তেহরান।
