আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরল রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় গড়ার লক্ষ্যে কোমর বেঁধে নামল বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF)। রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিপিইএম তাদের ৮১ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে পিনারাই বিজয়ন সরকার যে কোনও  ঝুঁকি নিতে নারাজ, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে এই প্রার্থী তালিকায়। বড় কোনও চমক বা নাটকীয় বদলের পথে না গিয়ে দল এবার মূলত অভিজ্ঞ এবং বর্তমান বিধায়কদের ওপরই ভরসা রেখেছে।

দলের এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও জনমুখী প্রকল্পগুলোকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন আবারও তাঁর নিজের গড় হিসেবে পরিচিত কান্নুর জেলার ধর্মদম কেন্দ্র থেকে লড়ছেন। অন্যদিকে, কেরলের ঘরে ঘরে পরিচিত ‘শৈলজা টিচার’ অর্থাৎ প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজাকে দল এবার পেরাবুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে। গত নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জেতা শৈলজাকে এবার কান্নুরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে নামিয়ে দল নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে চাইছে।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের ক্ষেত্রেও দল একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ভি শিবনকুট্টি (নেমম), বীণা জর্জ (আরণমুলা), কে এন বালগোপাল (কোত্তারাক্কারা), আর বিন্দু (ইরিঞ্জালাকুদা) এবং পি এ মহম্মদ রিয়াসের (বেপোরে) মতো দাপুটে মন্ত্রীরা আবারও তাঁদের পুরনো কেন্দ্র থেকেই লড়াই করবেন। বিশেষত তিরুবনন্তপুরম জেলায় দলের সমস্ত বর্তমান বিধায়ককেই আবারও টিকিট দেওয়া হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে দল সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার আঁচ পেতে চাইছে না।

&t=1s

এবারের তালিকায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বৈচিত্র্যের ছোঁয়াও রয়েছে। প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার ইউ শরাফ আলিকে নীলাম্বর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়াও ১০ জন মহিলা প্রার্থীকে লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়েছে সিপিআইএম। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ডিওয়াইএফআই (DYFI) রাজ্য সম্পাদক ভি কে সানোজ লড়ছেন মাতান্নুর থেকে। তবে তালিকায় বড় অনুপস্থিতি হিসেবে লক্ষ্য করা গেছে বর্তমান স্পিকার এ এন শামসীর এবং অভিজ্ঞ নেতা এম এম মণি-র নাম।

সিপিইএম রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, জাতীয় সড়কের উন্নয়ন, গেইল (GAIL) পাইপলাইনের মতো মেগা প্রজেক্ট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই হবে তাঁদের প্রচারের প্রধান হাতিয়ার। আগামী ৯ এপ্রিল কেরলের ১৪০টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এখন দেখার, কেরলের মানুষ ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা’ বজায় রাখতে পিনারাই সরকারের ওপর আবারও আস্থা রাখেন কি না।