আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন চাপেই কী কিছুটা নরম হচ্ছেন পুতিন, নাকি দুনিয়ার সামনে ভাল সাজার কৌশল? এবার বোধহয় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে। ক্রেমলিনের তরফে জানানো হয়েছে যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে শান্তি আলোচনার জন্য মস্কোয় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতার পর রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
তবে কিছুটা নাটকীয়ভাবেই এসেছে ক্রেমলিন এই বিবৃতি। কারণ, দুই দেশ তাদের সর্বশেষ যুদ্ধাহতদের বিনিময় করার সময় এবং মস্কো ও কিয়েভ একে অপরের জ্বালানি পরিকাঠামোতে আঘাত করা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে এমন গুজব নিয়ে মন্তব্য করতে এই ঘোষণার আগেই অস্বীকার করেছিল রাশিয়া।
গত সপ্তাহান্তে আবুধাবিতে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় কিছুটা নতুন গতি সঞ্চার করেছে, তবে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের আলোচনার অবস্থানের মধ্যে গভীর পার্থক্য রয়ে গিয়েছে। তীব্র লড়াই এখনও চলছে। রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কিয়েভে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা প্রবলভাবে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা শনিবার অ্যাক্সিওস'কে জানিয়েছেন যে, মার্কিন-মধ্যস্থতা আলোচনার পরে জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি বৈঠকের "খুব কাছাকাছি" ছিলেন।
গত রবিবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়। আবুধাবিতে নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প - যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন - মঙ্গলবার বলেছেন যে এই প্রক্রিয়ায় "খুব ভাল জিনিস" ঘটছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম কোন চুক্তিতে কে কোন অঞ্চল পাবে, যুদ্ধোত্তর ইউক্রেনে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বা পর্যবেক্ষকদের সম্ভাব্য উপস্থিতি এবং রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাগ্য।
ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা উদ্ধৃত করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, জেলেনস্কির রাশিয়ায় আসার আমন্ত্রণের বিষয়ে মস্কো এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পায়নি।
উল্লেখ্য, জেলেনস্কি গত বছর একই ধরণের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইউত্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন যে, তিনি এমন একটি দেশের রাজধানীতে যেতে পারবেন না যারা প্রতিদিন তাঁর দেশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। উল্টে সেই সময়ে তিনি পুতিনকে কিয়েভে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এরপরই ক্রেমলিনের বিদেশ নীতির সহকারী ইউরি উশাকভ বুধবার বলেছেন, পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে যেকোনও বৈঠক ভালভাবে প্রস্তুত এবং ফলাফল-ভিত্তিক হতে হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, মস্কো এলে জেলেনস্কির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও গত বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে, কে কোন অঞ্চল পাবে তা নিয়ে মতবিরোধকে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এই সমস্যা সমাধান করা "খুব কঠিন"।
রাশিয়া চায়, ইউক্রেনীয় বাহিনী ডোনেটস্ক অঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ থেকে সরে যাক, যা রাশিয়ার সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে না। কিয়েভ বলেছে যে তারা মস্কোর এমন ভূখণ্ড উপহার দিতে চায় না যা রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে জয় করেনি এবং যা ভবিষ্যতে রাশিয়ান বাহিনীকে ইউক্রেনের আরও গভীরে প্রবেশের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
ক্রেমলিনের সহযোগী উশাকভ গত বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, তিনি ভূমি সমস্যাটিকে টেবিলে থাকা একমাত্র মূল বিষয় হিসাবে বিবেচনা করেন না।
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ চুক্তির অংশ হিসাবে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে যে সুরক্ষা গ্যারান্টি দিতে সক্ষম, তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।তাঁর সন্দেহ যে, ইউক্রেন স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে যদি সেদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ক্ষমতায় রাখার জন্য তৈরি করা হয়।
এদিকে, দক্ষিণ রাশিয়ার চেচনিয়ার ক্রেমলিন-সমর্থিত নেতা রমজান কাদিরভ শান্তির বদলে আরও যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে কট্টরপন্থীদের এই বিশ্বাস প্রতিফলিত হচ্ছে যে, মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভ করছে। ক্রেমলিনে সাংবাদিকদের কাদিরভ বলেন, "আমি আলোচনার বিরুদ্ধে আমি বিশ্বাস করি যুদ্ধকে তার সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত।"
