আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিন বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের জন্য মুখোমুখি বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। শুক্রবার তুরস্কের ইস্তানবুলে ঐতিহাসিক দোলমাবাচচে প্রাসাদে বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ বিরাট প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তুরস্কের প্রতিনিধিরাও। এমনকি, দেখা গিয়েছে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীকে হাকান ফিদানকেও।
সম্প্রতি, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁর হস্তক্ষেপেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে। তার আগে মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শিগগিরই সরাসরি বৈঠক করবেন। জানা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করব’। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের দাবি, শান্তি ফেরাতে গেলে দরকার ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি, অপহৃত ইউক্রেনীয় শিশুদের ফেরত দেওয়া, দুই দেশের যুদ্ধবন্দিদের ফিরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে, রাশিয়া জানায়, তারাও কূটনৈতিক পথেই যুদ্ধ সমাপ্ত করতে চায় এবং যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে আলোচনায় আগ্রহী। কিন্তু পাল্টা ইউক্রেনকে চাপে রেখেছেন রুশ প্রতিনিধিরা। তাঁরা দাবি করেন, এই যুদ্ধবিরতিকে কাজে নতুন করে আধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারে ইউক্রেন।
এর আগে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব রেখেছিলেন পুতিন। কিন্তু জেলেনস্কি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে দুই দেশই বৈঠকে পাঠায় নিজেদের প্রতিনিধি দলকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত কিথ কেলোগ। তবে রুবিও সাফ জানিয়ে দেন, আলোচনার এই পর্যায়ে খুব একটা বড় অগ্রগতি আশা করা যাচ্ছে না। শুক্রবার রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের একটি গ্রাম দখল করেছে তারা। ইউক্রেনের ডিপ্রো শহর থেকেও বিমান হামলার সতর্কতা ও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।
