আজকাল ওয়েবডেস্ক: লন্ডনের আকাশে বহু শতাব্দী আগে হারিয়ে যাওয়া এক পরিযায়ী পাখি আবার ফিরছে। ব্রিটেনের এই প্রজাতিটি একসময় গ্রামাঞ্চল, জলাভূমির বাসিন্দা ছিল। কিন্তু এবার তাদের পুনরাবির্ভাব হতে চলেছে অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল পূর্ব লন্ডনের ডেগেনহ্যামে। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ফিরে আসা শুধু পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের বিষয় নয়, বরং ইতিহাস, নীতি ও ভবিষ্যৎ নগরপরিকল্পনার এক পরীক্ষাও বটে।


সেই পাখিটি হলো সাদা স্টর্ক যা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে একসময় বাস করত। তবে ১৫ শতাব্দীর পর থেকে এই প্রজাতি স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় মূলত শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে। ফলে লন্ডনে এদের প্রজনন আর দেখা যায়নি। এটি হবে লন্ডনের ইতিহাসে প্রথম পরিকল্পিত প্রজনন পুনরাবির্ভাব।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য দুই ধরনের—একদিকে হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে আধুনিক নগরবাস্তুতন্ত্রে প্রজাতিটি টিকে থাকতে পারে কিনা তা পরীক্ষা করা। এ উদ্যোগের দায়িত্বে আছে লন্ডনের একটি সংস্থা। নাম লন্ডন ওয়াইন্ড লাইফ ট্রাস্ট। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 


প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম ধাপে স্টর্কগুলোকে একটি বড় আকারের এভিয়ারিতে রাখা হবে—যা তৈরি করা হচ্ছে পুনর্গঠিত তৃণভূমি ও জলাভূমির মধ্যেই। এতে তারা ধীরে ধীরে স্থানীয় পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, শিকার, খাদ্যসংগ্রহ ও বাসা বাঁধার অনুশীলন করবে। পরবর্তী ধাপে তাদের উন্মুক্ত প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হবে, যেন তারা চারপাশের এলাকা ব্যবহার করে খাদ্য সংগ্রহ ও প্রজনন করতে পারে।


লন্ডন বন্যপ্রাণ ট্রাস্টের সম ড্যাভেনপোর্ট, যিনি ট্রাস্টের ডিরেক্টর তিনি জানিয়েছেন, নগর এলাকায় এই ধরনের পুনঃপ্রবর্তন নতুন আলোচনা শুরু করে। তার মতে পূর্ব লন্ডনকে অনেকে কংক্রিটের জঙ্গল বলে ভাবলেও এখানে বাস্তবে বিশাল খোলা জায়গা, জলাভূমি ও উদ্ভিদজগত রয়েছে, যা স্টর্কদের মতো প্রজাতির জন্য কার্যকর হতে পারে।


এই প্রকল্পের তাৎপর্য শুধু পরিবেশগত নয়, সামাজিকও। এটি দেখাবে নগর উন্নয়ন কি জীববৈচিত্র্যবান্ধব হতে পারে? পুরনো শিল্পাঞ্চল কি পুনর্নির্মাণ করে প্রাকৃতিক আবাস তৈরি করা যায়? জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর ঘনত্বের চাপে এগুলোই এখন বড় প্রশ্ন।

&t=1486s


সাদা স্টর্কের ফিরে আসা তাই অতীত ও ভবিষ্যতের সংযোগ। বহু শতাব্দী আগে লন্ডনের চিমনির ওপরে যে পাখি বাসা বাঁধত, সে এবার ফিরে আসবে মানুষের পুনর্নির্মিত পরিবেশে শহরের মাঝে, কংক্রিটের বেড়ায়, এবং শিল্পাঞ্চলের পুনর্জন্মে। এই ফিরে আসা সফল হলে, এটি নগর-বন্যপ্রাণীর জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে—শুধু লন্ডনে নয়, সারাবিশ্বে।