আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ সাগরেও। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারত মহাসাগরে। প্রথমে ইরানি যুদ্ধ জাহাজের উপর হামলা নিয়ে জল্পনার অবকাশ থাকলেও, সত্যি জানিয়ে দিয়েছে খোদ ওয়াশিংটন। বুধবার ইরানের যুদ্ধজাহাজের উপর যে হামলা চলে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেই প্রসঙ্গে আমেরিকা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সেনাই ওই হামলা চালিয়েছে। সঙ্গেই বার্তা স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক জলসীমাতেও সুরক্ষিত নয়। সেখানেও সাবমেরিন। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য, হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮০জনের। তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ। 


মজ ক্লাসের একটি ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা, ২০২৪ সালে বহুপাক্ষিক নৌ মহড়া মিলানে অংশগ্রহণের জন্য ভারতে এসেছিল, একই মহড়ার ২০২৬ সংস্করণ, যেখান থেকে আজ মার্কিন সাবমেরিন আক্রমণ করার সময় এটি দেশে ফিরে আসে।

 

পশ্চিম এশিয়ায় সময়ের  সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে চিন্তা বিশ্ব জুড়ে। এবার যুদ্ধের আঁচ ভারত মহাসাগরেও। আন্তর্জাতিক এবং সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে বুধবার দুপুরে জানা যায়, ইরানের একটি জাহাজের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা ঘটেছে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে। সাবমেরিন অর্থাৎ ডুবোজাহাজ থেকে হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে প্রাথমিকভাবে। 

জানা গিয়েছে, এই জাহাজ-হামলার ঘটনায় নিখোঁজ শতাধিক। উদ্ধার করা হয়েছে ৩০-এর বেশি মানুষকে। ওই জাহাজটিতে অন্তত ১৮০জন ছিলেন বলে জানা যায় প্রাথমিকভাবে। 

 

ঘটনায় শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সামরিক বাহিনী ডুবে যাওয়া ইরানি জাহাজে থাকা ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৩২জনের মধ্যে, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সাতজন জরুরি চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং অন্যরা সামান্য আহত হয়েছেন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সংসদে জানান, শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী তথ্য পেয়েছে যে ১৮০ জন আরোহী নিয়ে আইআরআইএস ডেনা জাহাজটি মাঝপথে বিপদে পড়ে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বিমান হামলার পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। সোমবার পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, তেল সংশোধনাগার লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন আঘাত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি, মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ৯০ শতাংশেরও বেশি হারে এই হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এভাবে ব্যয়বহুল ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করে কতদিন প্রতিরক্ষা চালানো সম্ভব? সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকেই পরিষ্কার হয়েছে, কম খরচের অস্ত্র দিয়ে উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা যায়।