আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার অন্যতম মূলচক্রী হামজা বুরহান। তাকে পাকিস্তানের মাটিতে গুলি করে খুন করল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদে তাকে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়েছে বলে খবর।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল, হামজা ছিল তার অন্যতম প্রধান মাথা। ওই হামলায় ৪০ জনেরও বেশি জওয়ান শহিদ হন। ভারতে এত বড় নাশকতা চালানোর পর নিজের আসল পরিচয় লুকাতে পাকিস্তানে ‘শিক্ষক’ সেজে লুকিয়ে ছিল সে।
এমনকী জানা গিয়েছে, সমাজের চোখে ধুলো দিতে সে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকও বনে গিয়েছিল। ওই স্কুলটিকে সে নিজের আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত।
তদন্তকারীদের দাবি, মুজফফরাবাদে নিজের অফিসে বসে থাকার সময়ই হামজার ওপর চড়াও হয় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। অফিসে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। অত্যন্ত কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করা হয়েছিল।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল এই হামজা। পাকিস্তানে নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলেও আসলে সে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে অস্ত্র ও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। সেই সঙ্গে ভারতের মাটিতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের পেছনেও তার হাত ছিল।
জানা গিয়েছে, হামজা বুরহানের আসল নাম আরজুমান্দ গুলজার দার। নিজের লোকজনের কাছে সে ‘ডক্টর’ নামেও পরিচিত ছিল। ২৭ বছর বয়সি এই যুবকের আসল বাড়ি ছিল পুলওয়ামার রত্নিপোরায়।
২০১৭ সালে সে পাকিস্তানে চলে যায়। সেখানে ‘আল-বদর’ নামের একটি জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। ভারতে এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ। হামজা এই আল-বদরের ‘কমান্ডার’ হিসেবে কাজ করছিল।
পুলওয়ামায় বিস্ফোরক সরবরাহ করা, সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো এবং কাশ্মীরের স্থানীয় যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে টেনে আনার পেছনেও মূল মাথা ছিল এই হামজা।
অভিযোগ, ভারতের বিরুদ্ধে এত সব নাশকতামূলক কাজ করার জন্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাকে সব রকম সাহায্য করত। মুজফফরাবাদে তাকে একটি অফিসও দেওয়া হয়েছিল। এমনকী তার নিরাপত্তার জন্য ২৪ ঘণ্টা একে-৪৭ রাইফেলধারী রক্ষী মোতায়েন থাকত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদ এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরেই ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র। বিভিন্ন ছদ্মবেশে ও নানা নামের আড়ালে একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠী সেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। হামজার মৃত্যুর ফলে সেই চক্রান্তে বড় ধাক্কা লাগল বলেই মনে করছেন অনেকে।















